রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মৃদু আলো জ্বালিয়ে ঘুমাচ্ছেন? এতে কী হয় জেনে নিন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৪, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

মৃদু আলো জ্বালিয়ে ঘুমাচ্ছেন? এতে কী হয় জেনে নিন

ঘুমের ওপর আলোর প্রভাব

মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত এবং গভীর ঘুম অত্যন্ত অপরিহার্য একটি বিশ্রাম প্রক্রিয়া। তবে ঘুমের ক্ষেত্রে একেকজনের অভ্যাস একেক রকম হয়। কেউ পুরোপুরি অন্ধকার ঘরে ঘুমান আবার কেউ মৃদু বা কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে মৃদু আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর এই অভ্যাসটি শরীরের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

বিশেষ করে কৃত্রিম আলোর উপস্থিতিতে ঘুমালে তা ঘুমের মান নষ্ট করার পাশাপাশি শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায় যা দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো জটিল সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গবেষকদের মতে অন্ধকারে ঘুমানোর সময় মানুষের শরীরে মেলাটোনিন নামক এক প্রকার হরমোন নিঃসৃত হয় যা মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত প্রদান করে। কিন্তু ঘরে আলোর উপস্থিতি থাকলে এই হরমোন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয় এবং ঘুমের গভীরতা কমে যায়। 

শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে যারা ঘুমের সময় কৃত্রিম আলো ব্যবহার করেন তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এর ফলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয় যা সরাসরি টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের অভাবে শরীরজুড়ে অবসাদ ও ক্লান্তি কাজ করে যা দৈনন্দিন কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়।হরমোনের এই ভারসাম্যহীনতা কেবল ঘুমের মান নষ্ট করে না বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করে ফেলে। 

চিকিৎসকরা বলছেন ভালো ঘুমের জন্য শোয়ার ঘরে আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন ল্যাপটপ বা টিভির মতো ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকা উচিত। এছাড়া বিকেলের পর চা কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পরিহার করা এবং প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সহায়তা করে। সুস্থ থাকতে অন্ধকার ঘরে নিরবচ্ছিন্ন ও গভীর ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।