মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ

অভিষেকের ঝড়ে দুই ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় ভারতের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

অভিষেকের ঝড়ে দুই ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় ভারতের

ছবি: সংগৃহীত

ওয়েলিংটনে অভিষেক শর্মার তাণ্ডবী সেঞ্চুরিতে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে ভারত। নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ১৯৮ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ৪১ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয়।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৯৮ রান। উদ্বোধনী জুটিতে ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট শুরুটা ভালো করতে পারেননি। দলীয় ৪ রানের মাথায় ৬ বলে ২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সেইফার্ট।

এরপর তিনে নামা ড্যারিল মিচেল ওপেনার অ্যালেনের সাথে জুটি বেঁধে ইনিংস পুনর্গঠন করেন। উইকেটের চারদিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে দলীয় স্কোর দাঁড় করায় ৫৮ রানে। ফিফটির কাছাকাছি পৌঁছে অ্যালেন ২৫ বলে ৪০ রান করে বিদায় নেন। চারে নামা গ্লেন ফিলিপস ১৪ বলে ১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

মিচেল শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৫২ বলে ৮৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন বেভন জ্যাকবস, যিনি ২৩ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

ভারতের বোলারদের পক্ষে আর্শদীপ সিং, অক্ষর প্যাটেল ও নিতিশ কুমার রেড্ডি একটি করে উইকেট লাভ করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই বিশ্বরেকর্ড গড়ে তোলেন অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী। শুরু থেকেই তারা কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে একের পর এক চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটান। মাত্র ১৫ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন অভিষেক।

পাওয়ারপ্লের প্রথম ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ১১৮ রান তোলে ভারত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এটিই পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ দলীয় রানের বিশ্বরেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ ১১৩ রানের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার দখলে।

দলীয় ১৩৩ রানের মাথায় ১৯ বলে ৪৫ রানের মারকুটে ইনিংস খেলে ফেরেন বৈভব সূর্যবংশী।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ক্রিজে আসেন সাঞ্জু স্যামসন। অপর প্রান্তে থাকা অভিষেক শর্মা মাত্র ৩৫ বলে নিজের সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি যখন আউট হন, ততক্ষণে ভারতের বিজয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১০ বলে ৫ রান এবং সাঞ্জু স্যামসন ১৩ বলে ১৮ রান করে বিদায় নেন। এরপর নামান ধির ও তিলক ভার্মা ঠান্ডা মাথায় দলকে ৪১ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে কাইল জেমিসন, ম্যাথু ফিশার এবং মিচেল স্যান্টনার প্রত্যেকে একটি করে উইকেট শিকার করেন।