রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কিডনি রোগের ৭টি লক্ষণ যা অবহেলা করা ঠিক নয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক

মে ৯, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

কিডনি রোগের ৭টি লক্ষণ যা অবহেলা করা ঠিক নয়

কিডনির সুস্থতায় সচেতনতা জরুরি

চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি প্রতিদিন রক্ত পরিশোধন, অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য অপসারণ এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে শরীরে তাৎক্ষণিক কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। এর ফলে রোগ ধরা পড়ার আগেই কিডনির একটি বড় অংশ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

কিডনি রোগের বেশ কিছু উপসর্গ এতটাই সাধারণ যে অনেকেই সেগুলোকে ক্লান্তি, বয়সজনিত সমস্যা বা দৈনন্দিন ব্যস্ততার প্রভাব ভেবে গুরুত্ব দেন না। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনগুলো সময়মতো শনাক্ত করতে পারলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব। 

বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে পা, গোড়ালি ও পায়ের পাতায় ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। 

এর পাশাপাশি স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়া কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার অন্যতম ইঙ্গিত। আবার কিডনির সমস্যার কারণে রক্তশূন্যতা দেখা দিলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও শরীরে অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমে গেলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে বমি বমি ভাব বা খাবারে অরুচি তৈরি হয়। 

এছাড়া কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপ একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হওয়ায় কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে, যার ফলে বুক ধড়ফড় করে। বিষাক্ত বর্জ্য মস্তিষ্কের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলে, যা মনোযোগের ঘাটতি বা মাথা ঝাপসা লাগার কারণ হতে পারে।

যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের অভ্যাস বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, বছরে অন্তত একবার রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করলে কিডনির সমস্যা আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব।