মে ১০, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
মেথি ভেজানো পানি হজম শক্তি বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও এটি সবার জন্য নিরাপদ নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট ৫টি শারীরিক অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য মেথির পানি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে।
যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে বা যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করছেন, তাদের জন্য মেথির পানি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। মেথি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং কার্বোহাইড্রেট শোষণ কমিয়ে দেয়। ফলে হঠাৎ রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে গিয়ে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে মেথির পানি সম্পূর্ণ পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মেথিতে থাকা কিছু যৌগ জরায়ুতে সংকোচন সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এটি প্রসব ত্বরান্বিত করলেও, শুরুর দিকে এটি অকাল প্রসব বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
থাইরয়েড রোগীদের জন্যও মেথি পানি পানে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মেথির কিছু উপাদান আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়, যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। তাই থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের এই পানি পানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।মেথি হজমে সহায়তা করলেও অনেকের ক্ষেত্রে এটি বিপরীত প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। মেথি পানি পানের ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে খালি পেটে এই পানি পান করলে এ ধরনের শারীরিক সমস্যাগুলো আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।যাদের বিভিন্ন খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের মেথির পানি পানে সাবধান থাকতে হবে। মেথি শিমজাতীয় পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যাদের ছোলা, মসুর ডাল বা চিনাবাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের মেথিতেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। প্রাকৃতিক উপাদান হলেও শারীরিক অবস্থা এবং ওষুধের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে মেথির পানি পানে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন