মে ১১, ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
দেশে হামের ভয়াবহতা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং মৃত্যুর মিছিল ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এগারো জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী এই এগারো জনের মধ্যে চারজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি সাতজন মারা গেছে এই রোগের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত মাত্র ৫৫ দিনের ব্যবধানে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে। এটি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে কারণ আক্রান্তের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন থেকে জানা গেছে যে উল্লিখিত সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬৫ জন আর সন্দেহজনক বা উপসর্গ ছিল এমন মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪৪ জন। একই সময়ে নতুন করে আরও ২৮২ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এখানে মূল সমস্যাটি হচ্ছে টিকাদানের হার নিয়ে। ইউনিসেফ যে তথ্য দিচ্ছে তা বেশ আশঙ্কাজনক।
দেখা যাচ্ছে শহরাঞ্চলে এখনো প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। এমনকি গ্রামাঞ্চলেও প্রায় ১৫ শতাংশ শিশু এখনো হামের টিকা পায়নি। আরসিএম বা দ্রুত টিকাদান পরিস্থিতি যাচাই পদ্ধতির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে যা সংক্রমণের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।বিভাগওয়ারী তথ্যের দিকে তাকালে দেখা যায় ঢাকা বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যেখানে এখন পর্যন্ত ১৩৮ জন মারা গেছে। এর পরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগ যেখানে প্রাণ হারিয়েছে ৭৮ জন শিশু।
এছাড়া বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেটেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে এক হাজার পাঁচশ জনের বেশি রোগী এসেছে যাদের মধ্যে অধিকাংশকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। বর্তমানে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা প্রায় উনপঞ্চাশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে টিকাদান কর্মসূচি যদি দ্রুত এবং আরও জোরালোভাবে পরিচালনা করা না যায় তবে সামনের দিনগুলোতে এই সংকট আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো টিকার আওতার বাইরে আছে তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে এই সেবার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন