রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

টাকা গুনে হাত না ধুলে হতে পারে মারাত্মক রোগ, জানুন সতর্কতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১২, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

টাকা গুনে হাত না ধুলে হতে পারে মারাত্মক রোগ, জানুন সতর্কতা

জানুন সতর্কতা

দৈনন্দিন জীবনে কেনাকাটা বা যাতায়াতে টাকার ব্যবহার অপরিহার্য হলেও এই কাগজের নোটগুলোই হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাত্যহিক লেনদেনে ব্যবহৃত কাগজের নোট বা ধাতব মুদ্রায় একটি ব্যবহৃত টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। টাকা এক হাত থেকে অন্য হাতে ঘোরে বলে এটি সহজেই জীবাণুর নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়।

টাকা নোংরা হওয়ার প্রধান কারণ এর অতি সক্রিয় চলাচল। একটি নোট দিনে বহু মানুষের সংস্পর্শে আসে। মাছের বাজার থেকে শুরু করে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টার পর্যন্ত সবখানেই এর বিচরণ থাকে। কাগজের নোটের সূক্ষ্ম তন্তুগুলোর মধ্যে মানুষের শরীরের ঘাম, ধুলাবালু ও আর্দ্রতা সহজেই আটকে থাকে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটি কাগজের নোটে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, টাকায় থাকা ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পেটের পীড়া, ডায়রিয়া বা প্রস্রাবের নালির সংক্রমণের জন্য দায়ী। এ ছাড়া স্ট্যাফাইলোকক্কাস নামের ব্যাকটেরিয়া ফুসফুস, ত্বক বা হাড়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। শুধু ব্যাকটেরিয়া নয়, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাসও টাকার নোটে বেশ কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে সক্ষম।

আমাদের দেশে ব্যাংক কর্মকর্তা ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আঙুলে থুতু লাগিয়ে টাকা গোনার একটি পুরনো প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অভ্যাস। এর মাধ্যমে টাকা থেকে সরাসরি জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। আবার একজনের লালার মাধ্যমে তার শরীরের রোগজীবাণু নোটে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তী ব্যবহারকারীর জন্য সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

টাকার মাধ্যমে রোগব্যাধি ছড়ানো রোধে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। টাকা নাড়াচাড়া করার পর এবং কোনো কিছু খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। চিকিৎসকরা বর্তমান যুগে শারীরিক মুদ্রার বিকল্প হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের ব্যবহারকে বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মনে করেন।

এ ছাড়া শিশুদের টাকা মুখে দেওয়ার অভ্যাস থেকে বিরত রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত মানিব্যাগ বা পার্স পরিষ্কার রাখা এবং টাকার সঙ্গে রুমাল বা টিস্যু পেপার না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। টাকা জীবনের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই সামান্য সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।