মে ১৮, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে যে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এই প্রাদুর্ভাগে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জন সংক্রমিত হয়েছেন। সেখানে ইতিমধ্যে ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।তবে বর্তমানের এই প্রাদুর্ভাবটি এখনো বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে পৌঁছায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে বর্তমানে শনাক্ত হওয়া সংখ্যার তুলনায় প্রকৃত আক্রান্তের আকার অনেক বড়। এই ভাইরাসের বর্তমান ধরনটি মূলত বুন্ডিবুগিও নামক ভাইরাসের কারণে ছড়াচ্ছে যার জন্য কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা কার্যকর ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি।
এর প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে জ্বর, পেশিতে ব্যথা ও অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে বমি, ডায়রিয়া এবং মারাত্মক রক্তক্ষরণ হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে এ পর্যন্ত ভাইরাসটির আটটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ পুরোপুরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াসহ তিনটি ভিন্ন স্বাস্থ্য অঞ্চলে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও ভাইরাসটির একটি সংক্রমণ ইতোমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আক্রান্ত ব্যক্তি ইতুরি থেকে সেখানে ফিরে এসেছিলেন।এই মারাত্মক ভাইরাসটি এখন ডিআর কঙ্গোর বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় দুটি নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। উগান্ডা সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে সেখানে মারা যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মূলত কঙ্গোর নাগরিক ছিলেন। অন্যদিকে অন্তত জন আমেরিকান নাগরিক কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন বলে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে।
এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে রুয়ান্ডা সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কঙ্গোর সঙ্গে তাদের সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর করেছে। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন যে কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাব ভৌগোলিকভাবে কতটা ছড়িয়েছে তা নিয়ে এখনো চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন