বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ: নতুন করে আরও তিন রোগী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ: নতুন করে আরও তিন রোগী

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আরও তিন ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার তারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে উপজেলায় এই রোগের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।

নতুন রোগীরা একই এলাকার বাসিন্দা। উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটি গ্রামের শাহিনুর বেগম (৩৫), আনছার আলী (৬৪) ও জবেদ আলী (৪৫) নতুন করে এই জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত শুক্রবার রামজীবন ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের হায়দার আলী, তার স্ত্রী আমিনা বেগম ও তাদের চার বছর বয়সী ছেলে আদিল এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়ে গরুর মাংস গ্রহণ করেন। ওই রাতেই তাদের শরীরে তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোস্কা তৈরি হয়। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ জন রোগী অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান জানান, হাসপাতালে আসা সকল রোগীকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। রোগটি সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসার আওতায় পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এদিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গবাদিপশুর টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, এলাকায় অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে এ পর্যন্ত ২০ হাজার ডোজ টিকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার গবাদিপশুকে ইতিমধ্যে টিকার আওতায় আনা সম্পন্ন হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আরও ১০ হাজার টিকার আনুষ্ঠানিক চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

রোগের বিস্তার স্থায়ীভাবে প্রতিহত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অসুস্থ বা আক্রান্ত পশু জবাই ও তার মাংস বিপণন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, শারীরিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের সচেতন করার লক্ষ্যে নিয়মিত উঠান বৈঠক এবং লিফলেট বিতরণের মতো কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে পরিচালনা করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।