অক্টোবর ২১, ২০২৫, ০৮:৫৬ পিএম
দিন দিন জীবনের গতি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে মানসিক চাপ, স্মৃতিভ্রংশ, মনোযোগের ঘাটতি আর তথাকথিত ‘ব্রেইন ফগ’। সারাক্ষণ মোবাইল ফোন, কাজের দৌড়ঝাঁপ আর ডিজিটাল তথ্যের চাপে মাথা যেন সারাক্ষণ ভারী লাগে। অথচ সুস্থ ও তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক ধরে রাখার গোপন রহস্যটা খুব কাছেই—নিয়মিত ব্যায়াম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিন ঘাম ঝরানো শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্ককেও করে আরও ধারালো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের একজনই নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, যা মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটায়। এই প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির প্রখ্যাত নিউরোসায়েন্টিস্ট ড. ওয়েন্ডি সুজুকি জানিয়েছেন, ব্যায়াম সরাসরি মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্ষমতা বদলে দিতে পারে। এটি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি এবং মনোযোগ রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
ড. সুজুকির গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র ২ থেকে ৩ দিন, ৪৫ মিনিট করে অ্যারোবিক বা কার্ডিও ব্যায়াম (যেমন দ্রুত হাঁটা, দৌড়, সাঁতার বা সাইক্লিং) করলেই মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের ‘হিপ্পোক্যাম্পাস’ নামক অংশটি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা নতুন কিছু শেখা ও স্মৃতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শরীরচর্চায় এই অংশটি আরও শক্তিশালী ও পুরু হয়, ফলে চিন্তা পরিষ্কার হয় এবং স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ হয়।
যারা এখনো নিয়মিত শরীরচর্চা শুরু করেননি, তাদের জন্য ড. সুজুকির পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন ৪৫ মিনিট করে দ্রুত হাঁটা বা দৌড়ানোর অভ্যাস করুন। মাত্র ৭-৮ সপ্তাহ এই রুটিন মেনে চললেই মস্তিষ্কের ফোকাস ও স্মৃতিশক্তিতে ইতিবাচক উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে।
কার্ডিও বা অ্যারোবিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায় এবং ‘ব্রেন-ডিরাইভড নিউরোট্রপিক ফ্যাক্টর’ (BDNF) নামক একটি প্রোটিন নিঃসরণ ঘটায়, যা মস্তিষ্কের নতুন কোষ তৈরিতে ও শেখার ক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে ব্যায়াম স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমায়, যা অতিরিক্ত হলে মস্তিষ্কের স্মৃতিবাহী অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই, স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন