রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ৮০৩

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৫:৩৫ পিএম

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ৮০৩

ছবি - সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়েও মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে চলতি ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৫৯ জনে। একই সময়ে, অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায়, সারা দেশে নতুন করে ৮০৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়। এই পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ৮০৩ জন রোগীর মধ্যে রাজধানীর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ২৮৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫৫ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩০ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১৮ জন রোগী। এই পরিসংখ্যান আবারও প্রমাণ করলো যে, ডেঙ্গুর বিস্তার এখন আর কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ঢাকার বাইরেই এর প্রকোপ বেশি।

বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সর্বোচ্চ ১১২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে (সিটি এলাকার বাইরে) ১৪৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি এলাকার বাইরে) ৯৭ জন, খুলনা বিভাগে ৪৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ১৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ১০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ব্যাপক বিস্তার গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকাগুলোতেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ, অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ১৭০ জনে। এর মধ্যে নারী ও পুরুষের আক্রান্তের হারেও উল্লেখযোগ্য তফাৎ লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরে মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারী রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৭৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৬০ হাজার ২৬৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সাধারণত বাংলাদেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসকে ডেঙ্গুর মূল মৌসুম হিসেবে গণ্য করা হয়। অক্টোবর মাস থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপও কমে আসার কথা। কিন্তু চলতি বছরে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এসেও দৈনিক আট শতাধিক মানুষের আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এডিস মশার প্রজনন দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেঙ্গুর এই দীর্ঘমেয়াদী প্রকোপ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ দুইশ চৌদ্দ জন এবং সেই এক বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই ভয়াবহ বছরের তুলনায় চলতি বছরের পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও, দৈনিক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ কমতে দিচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রতিদিন এই তথ্য গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা যেন প্রজনন করতে না পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্বর বা ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার এবং প্রচুর তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।