অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৫:৫৭ পিএম
সুস্থ ও ফিট থাকা আসলে খুব কঠিন কিছু নয়। এর জন্য প্রতিদিন দামি ওষুধ খাওয়া বা কোনো জটিল ডায়েট চার্ট মেনে চলার প্রয়োজন পড়ে না। বরং, দৈনন্দিন জীবনের কয়েকটি ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললেই শরীর এবং মন দুটোই ভালো রাখা সম্ভব। আজকের এই ব্যস্ত জীবনের মাঝেও খুব সাধারণ এই কাজগুলো আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে অনেক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখতে পারে।
প্রথমেই আসে খাবারের পরের অভ্যাস। পুষ্টিবিদরা বলছেন, খাওয়া শেষ করেই সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়া বা শুয়ে পড়া শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়। এর পরিবর্তে, দুপুরের বা রাতের খাবারের পর অন্তত দশ মিনিট হালকা হাঁটাচলা করা উচিত। এই সহজ অভ্যাসটি খাবার হজমে দারুণভাবে সহায়তা করে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ বাড়াতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এই উপকারী ফ্যাট আমাদের হৃদয় ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমায়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। তেলযুক্ত সামুদ্রিক মাছ (যেমন স্যামন, সার্ডিন), তিসির বীজ, চিয়া বীজ এবং আখরোটের মতো খাবারে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো ভালো ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া। পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সুস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার শান্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম আমাদের শরীর ও মনকে পরের দিনের জন্য পুরোপুরি রিচার্জ বা প্রস্তুত করে তোলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওজন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যাওয়া, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং মানসিক চাপ বাড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
চতুর্থ অভ্যাসটি হলো প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বিশেষ করে খাবার ও পানীয় রাখার ক্ষেত্রে। প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রে খাবার রাখলে তা থেকে বিপিএ ও ফ্যালেটস নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হতে পারে। এই রাসায়নিকগুলো শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায় এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত।
সবশেষে, নিয়মিত শরীরের অবস্থা পরীক্ষা করা। শুধু শরীরের ওজন মাপাই সুস্বাস্থ্যের একমাত্র নির্দেশক নয়। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের ভেতরের আসল অবস্থা জানা যায়। যেমন, রক্তে কোলেস্টেরল, ইনসুলিন এবং প্রদাহের মাত্রা কেমন আছে তা জানা যায়। এই ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে যেকোনো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা এড়াতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন