নভেম্বর ১, ২০২৫, ১০:৪১ এএম
সুন্দর ও পরিষ্কার ত্বক পেতে সবাই চায়। এই লক্ষ্যে অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার, বিশেষ করে ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন। ফলের তালিকায় আপেল প্রায় সবারই পছন্দের। একটি প্রচলিত ধারণা হলো, নিয়মিত আপেল খেলে ব্রণ, বিশেষ করে কপালের ব্রণ কমে যায়।কিন্তু এই ধারণাটি কতটা সত্য? আপেল কি আসলেই ব্রণ দূর করতে পারে? এ বিষয়ে সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ (ডার্মাটোলজিস্ট) ডা. প্রিয়াঙ্কা কুরি বলেন, আপেল, বেরি বা স্ট্রবেরির মতো ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের প্রদাহ কমায়, যা ব্রণ প্রতিরোধে সহায়ক এবং ত্বকের অকালবার্ধক্যও ঠেকায়।
আপেলে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বক আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়। তবে ডা. প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট করেছেন যে, আপেল কোনো জাদুকরী ফল নয়। এটি ব্রণ কমাতে অবশ্যই সহায়ক, কিন্তু এর পাশাপাশি ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ডা. প্রিয়াঙ্কা জানান, কপাল বা গালের ব্রণের ক্ষেত্রে আপেল উপকারী হতে পারে। নিয়মিত আপেল খাওয়ার পাশাপাশি, ত্বকের যত্নে এটি বাহ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যায়। কাঁচা আপেলের পেস্ট তৈরি করে সরাসরি ব্রণের জায়গায় লাগালে এটি প্রদাহ কমাতে এবং ত্বককে শীতল করতে সাহায্য করে।
অন্যান্য ফলের মতো আপেলও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হওয়ায় এটি ব্রণ কমানোর পাশাপাশি ত্বকের পিগমেন্টেশন বা দাগছোপ হ্রাসে সাহায্য করে এবং ত্বকে একটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা নিয়ে আসে।
চিকিৎসকের মতে, সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বক পাওয়ার যাত্রায় আপেল অবশ্যই একটি সহায়ক উপাদান হতে পারে। তবে, যদি দীর্ঘদিন ধরে ব্রণের সমস্যা না কমে বা ত্বকের সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে, তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় হরমোনজনিত বা অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ কারণেও ত্বকের সমস্যা হতে পারে, যা শুধু খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব হয় না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন