নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে সকালের নাস্তার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার হয়ে উঠেছে ওটস। পুষ্টিকর ও সহজলভ্য এই খাবারটি অনেকেই দুধ, ফল বা বিভিন্ন সিডস মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন। কেউবা এটি দিয়ে স্মুদি তৈরি করেন, অথবা পোহা বা খিচুড়ির মতো রান্না করেও খান। ওটসে পর্যাপ্ত ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন শুধু ওটস খাওয়াই শরীরের জন্য সবসময় ভালো নাও হতে পারে।
ভারতের মণিপাল হাসপাতালের প্রধান ডায়েটিশিয়ান পবিত্রা এন রাজ জানান, স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত ওটস খাওয়ার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, যা অনেকেরই জানা নেই। প্রতিদিনের ডায়েটে ওটস রাখার আগে কিছু বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।এর মধ্যে প্রথমটি হলো গ্লুটেন সেনসিটিভিটির ঝুঁকি। ওটস প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত হলেও, অনেক সময় এই শস্যগুলো এমন জায়গায় প্রক্রিয়াজাত করা হয় যেখানে গম বা বার্লির মতো গ্লুটেনযুক্ত শস্যও প্রক্রিয়াজাত হয়।
এর ফলে ক্রস-কন্টামিনেশনের কারণে ওটসে গ্লুটেন মিশে যেতে পারে। যাদের সিলিয়াক ডিজিজ বা গ্লুটেন অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ওটস পেটে প্রদাহ, অস্বস্তি ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কেনার সময় অবশ্যই সার্টিফায়েড 'গ্লুটেন-ফ্রি' ওটস বেছে নেওয়া উচিত।
দ্বিতীয়ত, ওটসে প্রচুর ফাইবার থাকায় এটি হজমে সহায়তা করে। তবে, যাদের হজমশক্তি দুর্বল বা কম ফাইবার খাওয়ার অভ্যাস, তারা হঠাৎ করে অতিরিক্ত ওটস খাওয়া শুরু করলে পেটে গ্যাস, পেট ফুলে যাওয়া বা ব্যথার মতো হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডা. রাজের মতে, শুরু থেকেই প্রতিদিন ওটস ডায়েটে না রেখে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ানো উচিত এবং শরীর কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।
তৃতীয় সমস্যাটি হলো খনিজ শোষণে বাধা। ওটসে ফাইটিক অ্যাসিড নামক একটি উপাদান থাকে, যা শরীরের ক্যালসিয়াম, আয়রন ও জিঙ্ক শোষণে বাধা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন ওটস খেলে শরীরে এসব প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। ডা. রাজ এর সমাধানে পরামর্শ দিয়েছেন, ওটস রান্নার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বা ফারমেন্ট (গাঁজন) করলে ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়, ফলে পুষ্টিগুণ আরও ভালোভাবে শোষিত হয়।
চতুর্থত, ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা। ওটস সাধারণত ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এটি সত্য, কিন্তু যেকোনো খাবারের মতোই অতিরিক্ত ওটস খেলে ক্যালোরিও বাড়ে। প্রতি ১০০ গ্রাম ওটসে প্রায় ৩৭৯ ক্যালোরি থাকে। তাই ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন বড় বাটি ভর্তি ওটস খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে বা ছোট ছোট ভাগে খাওয়া ভালো।
পঞ্চমত, পুষ্টির ঘাটতি। সকালের নাস্তায় যদি প্রতিদিন শুধু ওটসই খাওয়া হয়, তবে শরীরে প্রোটিন, অন্যান্য ভিটামিন এবং গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই একটি সুষম খাদ্যতালিকা বজায় রাখতে ব্রেকফাস্টে বৈচিত্র্য আনা জরুরি। ওটসের পাশাপাশি ফল, ডিম, দই বা শাকসবজি রাখাই উত্তম।
পুষ্টিবিদ পবিত্রা রাজের মতে, ওটস সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় উপকারিতাও পাবে এবং কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে না। ওটসের উপকারিতা অনেক, এটি হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তবে পরিমিত খাওয়াই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন