নভেম্বর ৪, ২০২৫, ০৩:৫২ পিএম
সুস্থ থাকতে ও শরীর গঠন করতে আজকাল অনেকেই বিভিন্ন রকম ডায়েট অনুসরণ করেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ওজন কমানো বা মাংসপেশি গঠনের জন্য উচ্চ প্রোটিন ডায়েট বা শুধু মাংসজাত খাবার (কার্নিভোর ডায়েট) গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যেকোনো কিছুই অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে—প্রোটিনও তার ব্যতিক্রম নয়।ভারতের প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা. দিমিত্রি ইয়ারনভ সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত প্রোটিন বা এক্সট্রিম কার্নিভোর ডায়েট দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এর ফলে অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে।
ডা. ইয়ারনভের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক তরুণ—যাদের বাইরে থেকে দেখতে একদম ফিট, অ্যাথলেটিক শরীর বা সিক্স-প্যাক অ্যাবস রয়েছে—তাদের অনেকেরই রক্তনালিগুলো ভেতর থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলাফল হিসেবে কোনো পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই ৩৫ বছর বয়সেও হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন অনেকে।
অতিরিক্ত প্রোটিন যেভাবে হার্টের ক্ষতি করে:
ডা. ইয়ারনভের মতে, বছরের পর বছর ধরে উচ্চ প্রোটিন বা কার্নিভোর ডায়েট অনুসরণ করলে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস:
-
শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
-
রক্তনালির ভেতরের আস্তরণ (Endothelium) ক্ষতিগ্রস্ত করে।
-
শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (Chronic Inflammation) সৃষ্টি করে।
-
রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত করে ফেলে, যা স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে বাধা দেয়।
তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে শরীর যত ফিটই দেখাক, ভেতরে কিন্তু অসুখ বাসা বাঁধতে পারে। আমি ৩৫ বছরের তরুণদেরও হার্ট অ্যাটাকের শিকার হতে দেখেছি। সিক্স-প্যাক শরীর আপনাকে হার্টের প্ল্যাক রাপচার (রক্তনালীতে জমা চর্বি ফেটে যাওয়া) থেকে রক্ষা করতে পারবে না, যদি আপনার খাদ্যাভ্যাস আপনার রক্তনালিগুলোকেই নষ্ট করে ফেলে।
সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি হিসেবে ডা. ইয়ারনভ ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েটের ওপর জোর দিয়েছেন। কোনো চরম বা এক্সট্রিম ডায়েট নয়, বরং নিয়মিত ও পরিমিত খাবারই শরীরকে ঠিকঠাক রাখতে পারে। তিনি যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক ও সম্পূর্ণ খাবার (Whole Foods) খাওয়া এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকা মানে শুধু বাইরে থেকে ফিট থাকা নয়, ভেতর থেকেও শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি। তাই কোনো বিশেষ ডায়েট অনুসরণ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন