রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফেসবুক কি লাইক বাটন সরিয়ে নিচ্ছে? যা জানা গেল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

ফেসবুক কি লাইক বাটন সরিয়ে নিচ্ছে? যা জানা গেল

দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে অনলাইন দুনিয়ার সবচেয়ে পরিচিত প্রতীকগুলোর একটি ছিল ফেসবুকের লাইক বাটন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালো লাগা প্রশংসা কিংবা সমর্থন জানানোর সহজতম মাধ্যম হিসেবে এই আইকন একটি নতুন ডিজিটাল সংস্কৃতি তৈরি করেছে।

তবে সম্প্রতি এর মূল সংস্থা মেটা এক নতুন ঘোষণা দিয়েছে যা প্রযুক্তি জগতে প্রশ্ন তুলেছে—এবার কি তবে লাইক বাটনের যুগের সমাপ্তি ঘটছে?

মেটা জানিয়েছে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুকের লাইক ও কমেন্ট বাটন বাইরের ওয়েবসাইটগুলোতে আর কাজ করবে না। অর্থাৎ যেসব ব্লগ সংবাদমাধ্যম ই-কমার্স সাইট বা অন্যান্য ওয়েবপেজে ফেসবুকের এই প্লাগইন ব্যবহার করা হতো সেগুলো সেদিন থেকে আর সক্রিয় থাকবে না।

তবে এই সিদ্ধান্তের একটি স্বস্তির খবরও রয়েছে। ফেসবুক অ্যাপ বা মূল ওয়েবসাইটের ভেতরে থাকা লাইক বাটনটি কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। ব্যবহারকারীরা আগের মতোই পোস্ট ছবি রিল বা ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন। মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের এই সিদ্ধান্ত মূলত ডেভেলপার টুলগুলোকে আরও সহজ ও আধুনিক করার পরিকল্পনারই অংশ। এক দশকেরও বেশি সময় আগে তৈরি করা এসব প্লাগইন একসময় ওয়েবসাইটে ফেসবুকের উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বটে কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

মূলত কঠোর গোপনীয়তা আইন ডেটা শেয়ারিং নীতির পরিবর্তন এবং নতুন নতুন সামাজিক মাধ্যমের উত্থান এসব কারণেই ফেসবুকের বাইরের প্লাগইনগুলো আজ আর আগের মতো প্রাসঙ্গিক নয়। তাই মেটার ভাষ্যমতে যেসব টুল এখন আর কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না বা প্রযুক্তিগত দিক থেকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে খাপ খায় না সেগুলোকে বজায় রাখার আর বাস্তবিক কোনো মূল্য নেই। উল্লেখ্য ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই লাইক বাটন শুধু প্রযুক্তির অংশ ছিল না এটি হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক প্রতীক।

মানুষের পছন্দ সামাজিক সমর্থন ইনফ্লুয়েন্সার জনপ্রিয়তা এবং ব্র্যান্ডিং সব ক্ষেত্রেই লাইক ছিল এক কেন্দ্রীয় মাপকাঠি। তবে ২০২৫ সালের ইন্টারনেট এখন অনেক বেশি বিচ্ছিন্ন যেখানে ব্যবহারকারীরা একাধিক অ্যাপে সময় কাটাচ্ছেন অ্যালগরিদম বহুমাত্রিক এবং গোপনীয়তা এখন প্রযুক্তি দুনিয়ার কেন্দ্রবিন্দু। এই নতুন বাস্তবতায় ফেসবুক এখন ভবিষ্যতের উদ্ভাবনে বেশি মূল্য যোগ করবে এমন টুলে মনোযোগ দিতে চাইছে অতীতের উত্তরাধিকারে নয়।