মে ৯, ২০২৬, ১১:২০ এএম
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, যা চিকিৎসা পদ্ধতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত এআই মডেলগুলো জরুরি রোগ শনাক্ত করতে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের চেয়েও বেশি পারদর্শিতা দেখাচ্ছে।
সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় ৭৬টি জরুরি রোগীর কেস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, এআইয়ের সঠিক রোগ নির্ণয়ের হার ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ। একই কেসগুলোতে চিকিৎসকদের সঠিক নির্ণয়ের হার ছিল ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ।
গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যখাতে এআই বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। এই বাজারটি বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ৩৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয় কমানো এবং রোগীর সন্তুষ্টি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত রোগ নির্ণয়ের উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ কমানো সম্ভব হচ্ছে।স্বাস্থ্যখাতে এআইয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য দেখা যাচ্ছে ডায়াগনস্টিক ইমেজিং বা রোগ নির্ণয়ে। এক্স-রে, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই বিশ্লেষণে এআই এখন অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমান নির্ভুলতা দেখাচ্ছে।
নিউমোনিয়া, ফুসফুসের জটিলতা কিংবা স্তন ক্যানসার শনাক্তে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত দ্রুত ফল দিচ্ছে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে।নতুন ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সাধারণত একটি নতুন ওষুধ বাজারে আসতে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে। এআই প্রযুক্তি সম্ভাব্য উপাদান শনাক্ত ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নকশা তৈরির মাধ্যমে এই সময়কাল অনেকাংশেই কমিয়ে এনেছে। এটি গবেষণা খরচ কমানোর পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা সমাধান নিশ্চিত করছে।
এছাড়া এআই এখন রোগীর জেনেটিক তথ্য, জীবনযাপন ও চিকিৎসার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা পারসোনালাইজড চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে পারছে। এতে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় সাফল্যের হার বাড়ছে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমছে। হার্ট অ্যাটাক বা সেপসিসের মতো গুরুতর অবস্থার পূর্বাভাসও এখন আগেভাগে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তবে এই অগ্রগতির সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রোগীর তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে এআই প্রযুক্তিকে একীভূত করা বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই কখনোই চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপন করবে না, বরং এটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এটি জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণে চিকিৎসকদের সময় বাঁচাবে এবং রোগীকে আরও উন্নত সেবা দিতে সহায়তা করবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ হাসপাতালে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে উঠবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন