শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গুগল সার্চ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার নিয়ম জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

জুন ১২, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

গুগল সার্চ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার নিয়ম জানুন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় অসাবধানতাবশত নিজের ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, বাড়ির ঠিকানা কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য গুগল সার্চ রেজাল্টে চলে আসে, যা গোপনীয়তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। 

যদিও গুগল সরাসরি অন্য কোনো থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য চিরতরে মুছে দিতে পারে না, তবে তারা তাদের নিজস্ব সার্চ রেজাল্ট থেকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিগত বিবরণ সরিয়ে ফেলার চমৎকার সুযোগ দেয়।আপনার গোপন তথ্য গুগল সার্চ থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট এবং সহজ আইনি ও কারিগরি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।প্রথমেই আপনার তথ্য গুগলে প্রকাশ্যে আছে কি না তা নিখুঁতভাবে যাচাই করার জন্য গুগলের ‍‍`রেজাল্টস অ্যাবাউট ইউ‍‍` নামের বিশেষ পেজে প্রবেশ করতে হবে।

 সেখানে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করে ফোন নম্বর, ই-মেইল বা বাড়ির ঠিকানা দিয়ে মনিটর করার সুবিধা পাওয়া যায়। গুগল আপনার হয়ে পুরো ইন্টারনেট সার্চ করে একটি সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট দেবে এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে ই-মেইল বা পুশ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সতর্ক করবে। এরপর সরাসরি সার্চ রেজাল্টের পাশে থাকা তিনটি ডট বা থ্রি-ডট মেনুতে ক্লিক করে ‍‍`রিমুভ রেজাল্ট‍‍` অপশনটি বেছে নিয়ে তথ্য সরানোর সঠিক কারণ নির্বাচন করে আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব।সরকারি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস, নম্বর, গোপন পাসওয়ার্ড কিংবা মেডিকেল রেকর্ডের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে গুগলের নির্দিষ্ট ‍‍`পারসোনাল কনটেন্ট রিমুভাল সাপোর্ট‍‍` পেজে গিয়ে ম্যানুয়াল আবেদন করতে হবে। 

সেখানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় ইউআরএল এবং অন্যান্য প্রমাণাদি দিয়ে সাবমিট করতে হয়। অনেক সময় মূল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য মুছে ফেলা হলেও গুগলের ‍‍`ক্যাশ‍‍` মেমরির কারণে সেটি সার্চ রেজাল্টে দীর্ঘদিন থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে গুগলের ‍‍`রিমুভ আউটডেটেড কনটেন্ট‍‍` টুলটি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পেজ বা ছবির লিংক জমা দিয়ে সেটি দ্রুত সরানোর অনুরোধ করা যায়, তবে ইন্টারনেট থেকে চিরতরে মুছতে মূল ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর গুগল একটি নিশ্চিতকরণ ই-মেইল পাঠাবে এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দেখবে। তারা মূলত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং জনস্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত নিজের নাম গুগলে সার্চ করে দেখা এবং প্রয়োজনে এই সচেতন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ।