নভেম্বর ১১, ২০২৫, ০৯:৩২ এএম
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর দেশটির মাটিতে আফিম উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর ২০২৫ সালে এসে আফিম চাষ প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, গত এক বছরে আফিম চাষের জমি ২০ শতাংশ এবং মোট আফিম উৎপাদন ৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
২০২২ সালের আগে আফগানিস্তান বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি আফিম উৎপাদন করত, যা থেকে তৈরি হতো ইউরোপের ৯৫ শতাংশ হেরোইন।
কিন্তু ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান সরকার ২০২২ সালের এপ্রিলে আফিমকে ‘ধর্মবিরোধী ও ক্ষতিকর’ উল্লেখ করে এর চাষ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।ইউএনওডিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ কৃষক অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা মেনে নিচ্ছেন। অনেকেই এখন গমসহ বিভিন্ন শস্য চাষ করছেন, যদিও আফিম চাষ এখনো অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক।
তবে, ৪০ শতাংশ কৃষিজমি বর্তমানে অনাবাদী পড়ে আছে। এর কারণ হিসেবে লাভজনক বিকল্প ফসলের অভাব এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছে।চলতি বছর আফিম চাষের জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২০০ হেক্টর, যার বড় অংশই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বাদাখশন প্রদেশে। ২০২২ সালের আগে দেশটিতে ২ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে আফিম চাষ হতো। তালেবান সরকার ইতোমধ্যে বালখ, ফারাহ, লাঘমান ও উরুজগান—এই চারটি প্রদেশকে চলতি বছর আফিমমুক্ত ঘোষণা করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানের কঠোর পদক্ষেপের কারণে আফিম উৎপাদনের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হেলমান্দসহ অন্যান্য স্থানে চাষ প্রায় সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়েছে। তবে বাদাখশন প্রদেশে মাঠ ধ্বংসের সময় কৃষকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা এবং হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। হেলমান্দ প্রদেশের এক কৃষক বিবিসি পশতুকে জানান, "নিষেধ মানলে অভাব, না মানলে জেল—দুই দিকেই বিপদ। যদি টাকা না পাই, তবে আবার পপি চাষে ফিরব।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আফিম চাষ কমে গেলেও এখন মাদক পাচারকারীরা সিন্থেটিক ড্রাগ যেমন মেথামফেটামিনে ঝুঁকছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে আফগানিস্তান ও আশপাশের এলাকায় এই ধরনের মাদক জব্দের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ইউএনওডিসি মনে করে, সিন্থেটিক মাদক উৎপাদন তুলনামূলকভাবে সহজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকেও সুরক্ষিত। ফলে অপরাধী চক্রগুলো এখন এগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মাদক পরিস্থিতিকে নতুন ঝুঁকিতে ফেলেছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন