সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই গাজার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১০:৫২ পিএম

ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই গাজার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু

ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজা উপত্যকা প্রায় বিরানভূমিতে পরিণত হলেও দমে যাননি সেখানকার শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ দুই বছর পর গাজার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাসে ফিরেছেন তাঁরা। চারপাশ জুড়ে ধ্বংসস্তূপ আর বাস্তুচ্যুত মানুষের আর্তনাদ থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হওয়া গাজাবাসীর জন্য এক আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর গাজা সিটির এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আবার চালু হয়েছে। তবে বাস্তবতা অত্যন্ত নির্মম। বর্তমানে ক্যাম্পাসের ভেতরেই প্রায় ৫০০ বাস্তুচ্যুত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

একসময়ের আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ও লেকচার হলগুলো এখন গৃহহীন মানুষের তাঁবুতে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসে আশ্রয় নেওয়া আত্তা সিয়াম বলেন।

এটি শিক্ষার জায়গা, আশ্রয়কেন্দ্র নয়—এটি আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার স্থান। আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই বলেই এখানে থাকা।জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গাজার শিক্ষা ব্যবস্থার এই পদ্ধতিগত ধ্বংসকে ‘স্কলাস্টিকাইড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়:গাজার ৯৫ শতাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।নিহত হয়েছেন ১২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী এবং ১৫০ জন শিক্ষাবিদ।সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ১৩৭টি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়।প্রতিকূল পরিবেশে পাঠদান চালিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. আদেল আওয়াদাল্লাহ জানান, বিদ্যুৎ সংকট ও সরঞ্জামের অভাবে খোলা দেয়াল প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে ঢেকে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়েছে।

এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মোটর ধার করতে হয়েছে। বর্তমানে মাত্র চারটি শ্রেণিকক্ষে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান কোনোমতে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।প্রথম বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থী ইয়োমনা আলবাবা বলেন, “আমি একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুসজ্জিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। এখানে সেই পরিবেশ নেই। তবুও আমরা নতুন করে সবকিছু গড়ে তোলার আশা রাখছি।”জাতিসংঘের মতে, এই ধ্বংসযজ্ঞ ফিলিস্তিনি সমাজের ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা। তবে ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস প্রমাণ করে—স্কুল ধ্বংস হলেও ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন ধ্বংস করা সম্ভব নয়।