জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্কিন অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে নজিরবিহীন কঠোরতা আরোপ করেছে তাঁর প্রশাসন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রেকর্ড সংখ্যক এক লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই সংখ্যাটি ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি, যা ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কঠোর বাস্তবায়নেরই প্রতিফলন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার স্টুডেন্ট ভিসা রয়েছে।
এ ছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসা ব্যক্তিদের প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বিশেষায়িত ভিসা (Work Permits) বাতিল করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বৈধ ভিসাধারীদেরও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।মেয়াদ উত্তীর্ণ অবস্থান ভিসার মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান (Overstay)। আইনি অপরাধ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো (DUI), সহিংসতা, চুরি ও জালিয়াতি। নিরাপত্তা ঝুঁকি সন্ত্রাসবাদে সহায়তা বা সন্দেহজনক গতিবিধি।ভুয়া তথ্য আবেদন করার সময় ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র টমি পিগোট জানান, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার দ্বিগুণেরও বেশি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে অপরাধীদের দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং নতুন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর স্ক্রিনিং করা হবে।বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি বৈধ ভিসাধারী বিদেশি নাগরিকের তথ্য পুনরায় যাচাই করার জন্য একটি নতুন ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সামান্যতম ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়মের আওতায় যারা সরকারি সুবিধার ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন, তাদেরও ভিসা বাতিল বা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন