বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন

iPhone ১৮ প্রো বাজারে এল নতুন চিপ ও ক্যামেরায়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:১০ পিএম

iPhone ১৮ প্রো বাজারে এল নতুন চিপ ও ক্যামেরায়

প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস আইফোন ১৮ প্রো বাজারে এসেছে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, দ্রুতগতির চিপসেট এবং ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচারের নতুন ক্যামেরা পরিকাঠামো নিয়ে। তবে আগের প্রজন্মের আইফোন ১৭ প্রোর তুলনায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলো লক্ষণীয় হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় এটি খুব বড় কোনো তফাত তৈরি করে না।

গত বছর ডিভাইসের সামগ্রিক নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল অ্যাপল। ফলে এবারের মডেলটিতে বাহ্যিক কাঠামোগত রূপান্তর বেশ সামান্য।

ডিভাইসটির ওজন আগের চেয়ে ৭ গ্রাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ গ্রামে। ফোনটির পেছনের গ্লাস প্যানেলটি অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের রঙের সাথে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

ডিসপ্লে বিভাগে ডিভাইসটিতে যুক্ত করা হয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ১২০ হার্টজ ওএলইডি ডিসপ্লে।

এর পিক্সেল ঘনত্ব প্রতি ইঞ্চিতে ৪৬০ পিপিআই। স্ক্রিনের দৃশ্য অত্যন্ত উজ্জ্বল, স্বচ্ছ ও মসৃণ। ডিসপ্লেতে নতুন অ্যান্টি-গ্লেয়ার আবরণ যুক্ত করায় তীব্র রোদের মধ্যেও বাইরে স্ক্রিন দেখতে কোনো অসুবিধা হয় না।

ফেস আইডির সেন্সর ও ক্যামেরা অংশটি আকারে কিছুটা ছোট করায় ডায়নামিক আইল্যান্ডে এখন একসঙ্গে তিনটি লাইভ অ্যাক্টিভিটি প্রদর্শন করা যায়, যেখানে পূর্ববর্তী প্রজন্মে দুটি কার্যক্রম দেখার সুযোগ সীমাবদ্ধ ছিল।

কর্মক্ষমতা বাড়াতে ডিভাইসটিতে স্থাপন করা হয়েছে নতুন এ২০ প্রো প্রসেসর।

অ্যাপলের তথ্যমতে, এই চিপটি গত বছরের এ১৯ প্রোর তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি গতিশীল এবং এর গ্রাফিক্স সক্ষমতা প্রায় ৪৫ শতাংশ উন্নত। ফোনে কার্যকর কুলিং সিস্টেম যুক্ত করায় দীর্ঘ সময় উচ্চ রেজল্যুশনের ভারী গেম খেললেও ডিভাইসটি মসৃণ কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে পারে।

ব্যাটারি ব্যাকআপেও লক্ষণীয় অগ্রগতি দেখা গেছে।

পূর্ববর্তী ১৭ প্রোর তুলনায় এটি প্রায় ছয় ঘণ্টা বেশি সচল থাকে। সাধারণ ব্যবহারে একবার পূর্ণ চার্জে ডিভাইসটি প্রায় দুই দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব। ছয় ঘণ্টার বেশি সময় একটানা স্ক্রিন সচল রাখার পরও এটি প্রায় দুই দিন টিকে থাকতে পারে।

৬০ ওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ইউএসবি-সি চার্জার ব্যবহার করলে মাত্র ৩৩ মিনিটে ৮০ শতাংশ চার্জ হয়ে যায় এবং শূন্য থেকে শতভাগ চার্জ হতে সময় লাগে প্রায় ৫৯ মিনিট।

অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ২৭ চালিত এই ডিভাইসের অন্যতম প্রধান সংযোজন গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন রূপ পাওয়া সিরি।

এই ভার্চ্যুয়াল সহকারী মানুষের কথ্য ভাষা আগের চেয়ে অনেক নিখুঁতভাবে বুঝতে পারে। এটি অপ্রয়োজনীয় কথোপকথন এড়িয়ে নির্দিষ্ট কমান্ড বা নির্দেশনা দ্রুত সম্পন্ন করতে পারদর্শী।

ডিভাইসের সাইড বাটন, স্পটলাইট সার্চ কিংবা ক্যামেরার মাধ্যমে স্ক্রিনে থাকা কনটেন্ট শনাক্ত করে সিরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে। বার্তা বা ইমেইল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ক্যালেন্ডারে ইভেন্ট যুক্ত করতেও এটি সক্ষম। তবে অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার না করলে হোয়াটসঅ্যাপ বা জিমেইলের ক্ষেত্রে এর বহু এআই সুবিধা অকার্যকর থাকে।

ক্যামেরা বিভাগে সবচেয়ে বৈপ্লবিক সংযোজন হলো ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি।

ফোনের পেছনে রয়েছে তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যার মধ্যে রয়েছে মূল সেন্সর, শূন্য দশমিক ৫ গুণ আল্ট্রাওয়াইড এবং ৪ গুণ অপটিক্যাল টেলিফটো লেন্স। সামনের অংশে সেলফির জন্য রাখা হয়েছে ১৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

কম আলোতে ছবি তোলার সময় নতুন অ্যাপারচার অতিরিক্ত আলো প্রবেশ করায় নাইট মোডে ছবি তোলার প্রক্রিয়া দ্রুত হয় এবং চলমান বস্তুর মোশন ব্লার অনেকাংশে কমে যায়। ব্যবহারকারীরা চাইলে স্বয়ংক্রিয় কিংবা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অ্যাপারচার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

সেন্সরের আকারের কারণে ডেপথ অব ফিল্ডে নাটকীয় পরিবর্তন না এলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে চলমান মানুষ বা পোষা প্রাণীকে ক্যামেরার ফোকাসে আটকে রাখা যায়। এছাড়া সাধারণ যেকোনো ভিডিও ধারণের পর সেটিকে সিনেমাটিক মোডে রূপান্তরের সুবিধা রয়েছে।

তবে সার্বিক মূল্যায়নে শক্তিশালী ডিভাইস হওয়া সত্ত্বেও গত বছরের মডেল ব্যবহারকারীদের জন্য এটি খুব বড় কোনো আপগ্রেড নয়।

নতুন সুবিধাগুলো উন্নত হলেও প্রতিদিনের ব্যবহারে এর ব্যবধান সীমিত হওয়ায় ডিভাইসটি কেনার আগে বাড়তি খরচের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।

সংক্ষেপে ফোনটির ইতিবাচক দিকের মধ্যে রয়েছে কমপ্যাক্ট আকার, উন্নত ডায়নামিক আইল্যান্ড, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার, ইউএসবি-সি সংযোগ এবং দ্রুতগতির হার্ডওয়্যার।

অন্যদিকে নেতিবাচক দিক হিসেবে রয়েছে সীমিত পরিবর্তন, চড়া মূল্য, কিছুটা বাড়তি ওজন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এআই কার্যকারিতায় কিছুটা পিছিয়ে থাকা।

বাংলাদেশের বাজারে আনঅফিসিয়াল ও অফিশিয়াল উৎসভেদে আইফোন ১৮ প্রোর দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯০ টাকা থেকে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ টাকা পর্যন্ত।

দেশের গ্যাজেট বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল গ্যাজেটস, সুমাশ টেক এবং ড্যাজলে স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট ও ওয়ারেন্টির ভিত্তিতে দামের তারতম্য রয়েছে। প্রাথমিক স্টোরেজের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯০ টাকা থেকে শুরু হয়ে উচ্চতর মেমোরি কনফিগারেশনে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ টাকা বা তার বেশিতে পৌঁছেছে।