অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পরাশক্তিকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, বরং জাতীয় প্রয়োজন ও বাণিজ্যিক উপযোগিতা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী সংস্থা এয়ারবাসের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে তার অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সতর্কতার সাথে যাচাই করা হয়।
সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইনগত কর্তৃপক্ষ বিশদ আইনি ও আর্থিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করার পরই কেবল চুক্তি স্বাক্ষরের পথে অগ্রসর হয়। ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সাথে চুক্তির ক্ষেত্রেও এই একই প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতীয় স্বার্থ ও আকাশপথের যোগাযোগের তাগিদে প্রয়োজন দেখা দিলে এয়ারবাসের পাশাপাশি মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথেও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে যেতে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই। যেকোনো অর্থনৈতিক খাতে দেশের পক্ষে লাভজনক ও যুক্তিযুক্ত প্রস্তাব পাওয়া গেলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করে হুমায়ুন কবির বলেন, এয়ারবাসের সাথে এই চুক্তির বাইরেও ইউরোপীয় অঞ্চলের সাথে বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিস্তৃত সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক সমমর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুসংহত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী জানান, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম ক্যারিয়ার হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠিত চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে মোট ১০টি সর্বাধুনিক উড়োজাহাজ সংগ্রহ করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
চুক্তির শর্তাবলি অনুসারে, ২০৩৩ সালে প্রথম উড়োজাহাজটি দেশে পৌঁছাবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ ও ২০৩৭ সাল নাগাদ অবশিষ্ট বিমানগুলো বহরে যুক্ত হবে। এর মধ্যে চারটি দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য এবং বাকি ছয়টি আঞ্চলিক রুটের জন্য সরবরাহ করবে এয়ারবাস। নতুন এই ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের মোট বহর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৪টিতে, বর্তমানে যা রয়েছে মাত্র ১৯টিতে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন