বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

মেসির বিদায়ে নেইমারের আবেগঘন বার্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:০০ পিএম

মেসির বিদায়ে নেইমারের আবেগঘন বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে নিজের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনেছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। বুয়েনস এইরেসের বিখ্যাত এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের বিদায়লগ্নে পুরো ক্রীড়াবিশ্ব যখন গভীর শ্রদ্ধায় অবনত, তখন সবচেয়ে আন্তরিক ও স্পর্শকাতর বার্তাটি এসেছে তার দীর্ঘদিনের অন্তরঙ্গ বন্ধু ও ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের কাছ থেকে।

বার্সেলোনা থেকে শুরু করে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)—মাঠের লড়াইয়ে দীর্ঘ পথচলায় দুজন গড়ে তুলেছিলেন নিখাদ বন্ধুত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

প্রিয় সতীর্থের বিদায়ের দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া নেইমারের বার্তাটি বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

আবেগঘন বার্তায় নেইমার উল্লেখ করেন, যারা সত্যিকার অর্থে ফুটবল ভালোবাসেন, তারা দীর্ঘ বহু বছর ধরে মেসির পায়ের জাদুকরী ছন্দ উপভোগ করার বিরল সুযোগ পেয়েছেন।

মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা স্মরণ করে নেইমার ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালের স্মৃতি রোমন্থন করেন। মারাকানার সেই ফাইনালে ব্রাজিলের পরাজয় সত্ত্বেও মেসির হাতে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি ওঠার ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে তিনি অনন্য সম্মান হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

বন্ধুর প্রতি শুভকামনা জানিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা লেখেন, জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচটির প্রতিটি সেকেন্ড যেন মেসি উপভোগ করেন এবং সারা বিশ্বের মানুষের দেওয়া শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা যেন তাকে অপার আনন্দ দেয়।

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ফুটবলের জন্য মেসির অবদান কেবল আর্জেন্টিনা বা লাতিন আমেরিকার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়।

নেইমারের ভাষায়, ফুটবলের সৌন্দর্যে মেসি যা কিছু যোগ করেছেন, তার জন্য শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বরং সমগ্র মানবজাতি ও পুরো বিশ্ব চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে।

বার্তার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী অংশে নেইমার তাদের দীর্ঘদিনের যৌথ পথচলার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি লেখেন, ফুটবলকে আরও গভীর অনুরাগে ভালোবাসতে শেখানোর জন্য মেসির কাছে তিনি চিরঋণী। মেসির বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাকে তিনি পরম সম্মানের মনে করেন, আর তার সঙ্গে এক হয়ে ফুটবলের ইতিহাসের অংশ হতে পারা ছিল তার জীবনের আরও বড় প্রাপ্তি।

ফুটবলের ইতিহাসে সেই ‘ইতিহাসের অংশ’ হওয়া মূলত ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের অবিস্মরণীয় ‘এমএসএন’ ত্রয়ীর স্বর্ণযুগকে নির্দেশ করে।

এই পরাক্রমশালী আক্রমণভাগ কাতালান ক্লাবটিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপসহ ৯টি বড় শিরোপা উপহার দিয়েছিল। পরবর্তীতে পিএসজিতেও দুই মৌসুম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন তারা। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক মঞ্চ মিলিয়ে মোট ২০৬টি ম্যাচে একসঙ্গে লড়াই করেছেন এই দুই তারকা।

মাঠে মেসি যখন আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মুগ্ধতা ছড়িয়ে বিদায় নিচ্ছিলেন, গ্যালারি ও টিভি পর্দার ওপারে থেকে সেই মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন নেইমার।

ব্রাজিলিয়ান মহাতারকার এই উষ্ণ অভিবাদন আবারও প্রমাণ করল, লিওনেল মেসির এই বিদায় কেবল একটি দেশের বা দলের সমাপ্তি নয়, বরং তা ফুটবল ইতিহাসের এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি।