বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০

ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

দেশজুড়ে চলা এই তীব্র গণ-আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে এই প্রথম তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এত বড় কোনো পরিসংখ্যান স্বীকার করা হলো।

সরকারি ভাষ্য ও দায়ারোপ রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এই মৃত্যুর পেছনে ‘সন্ত্রাসীদের’ হাত রয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ নাগরিক এবং কতজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি দেননি। 

সরকার বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, নামপরিচয়হীন কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে ‘ছিনতাই’ করে সহিংসতা ছড়াচ্ছে।আন্দোলনের কারণ মূলত দেশটির নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। গত তিন বছরের মধ্যে এটিই ইরানি প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর থেকে ইরান তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে।

"১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব এই আন্দোলন দমনে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছে।"

মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি ইরানি প্রশাসন একদিকে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে ‘যৌক্তিক’ বলছে, অন্যদিকে রাজপথে কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভিডিও ফুটেজ রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত সাম্প্রতিক ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। ভিডিওগুলোতে গুলির শব্দ এবং গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য উঠে এসেছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো আগে থেকেই কয়েকশ মানুষের মৃত্যু ও হাজার হাজার গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল, তবে সরকারি এই তথ্যে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হলো।