জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তাঁদের রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, তাঁদের জন্য সাহায্য পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর বার্তায় বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে সম্বোধন করে বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। হত্যাকারী ও নিপীড়কদের নাম সংরক্ষণ করুন; তাঁদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ ও প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ইরানে কাণ্ডজ্ঞানহীন এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরণের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, “সাহায্য পৌঁছানোর পথে রয়েছে।” তবে এই ‘সহায়তা’ ঠিক কী ধরণের হবে—তা কি মানবিক সাহায্য নাকি অন্য কোনো কৌশলগত সহায়তা—এবং কখন তা ইরানে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।গত ২৮ ডিসেম্বরে রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ছোট ছোট বিক্ষোভ থেকেই এই গণআন্দোলনের সূত্রপাত। ইরানে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি এবং স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক দরপতন চলছে।
এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও তরুণ জনগোষ্ঠী লাগাতার রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করে।গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। বিশেষ করে ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহ-এর ছেলে রেজা পাহলভি সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার পর রাস্তাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন