বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১১:২০ এএম

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন যে বিক্ষোভের জেরে যদি আন্দোলনকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা শুরু হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মঙ্গলবার দেওয়া এই বক্তব্যে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা উল্লেখ না করলেও তার এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

 ট্রাম্পের এমন অবস্থানের পর তেহরান পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে যে ওয়াশিংটন আসলে সামরিক হস্তক্ষেপের একটি অজুহাত খুঁজছে।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে ইরানের মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে যে সরকারি দমন-পীড়নের মুখে বিক্ষোভে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য গত কয়েক দশকের মধ্যে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। 

বিশ্বজুড়ে এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিলেও ইরান সরকার দাবি করছে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে সরকার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে চাইছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।ইরানের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তাকে ভালো চোখে দেখা হচ্ছে না। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে যে ওয়াশিংটনের এই কৌশল অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে এবং এবারও সফল হবে না। তাদের মতে মার্কিন নীতির মূল লক্ষ্য হলো ইরানে শাসন পরিবর্তন করা। তারা মনে করে নিষেধাজ্ঞা ও হুমকির মাধ্যমে ইরানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে মূলত সামরিক হামলার পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।

 তেহরানের প্রসিকিউটররা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া কিছু বিক্ষোভকারীকে আল্লাহর শত্রু হিসেবে অভিযুক্ত করেছে যার অর্থ হতে পারে তাদের সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া।এর আগে ট্রাম্প সরাসরি ইরানি জনগণের উদ্দেশে বলেছিলেন যে তাদের জন্য সাহায্য আসছে। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এই কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানো এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি ইরান সরকারকে বিশ্ব দরবারে আরও বেশি কোণঠাসা করে ফেলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যদি সত্যিই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা শুরু হয় তবে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে যাবে যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।