বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরান পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা জাতিসংঘের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরান পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা জাতিসংঘের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি মনে করছে দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আক্রমণাত্মক বা সামরিক সুরের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ এই অবস্থান ব্যক্ত করেছে।

 মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান যে তারা বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি এবং সেখানে চলমান সামরিক বাগাড়ম্বর নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

 ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এক বক্তব্যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যে সাহায্য আসছে এবং তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সামরিক ভাষায় কথা বলার পরিবর্তে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত হবে কূটনীতির ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া।

 পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনার বিকল্প নেই বলে মনে করে এই বিশ্ব সংস্থা। স্টিফেন ডুজারিক সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমানে ইরান থেকে জাতিসংঘের কোনো কর্মী সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি জানান সেখানে বর্তমানে ৪৬ জন আন্তর্জাতিক কর্মী এবং ৪৪৮ জন স্থানীয় কর্মী তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে ইরানি রিয়ালের মান দ্রুত কমে যাওয়ায় দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই অর্থনৈতিক সংকটের ফলে ইরানের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

 বিক্ষোভে পুলিশ ও সাধারণ মানুষসহ বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে যা পরিস্থিতিকে আরও সহিংস করে তুলেছে। এমন অস্থিতিশীল সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিশ্বনেতার মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। জাতিসংঘ মনে করে বাইরের কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য যেন পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে না যায় সেদিকে সবার খেয়াল রাখা জরুরি। আন্তর্জাতিক এই উত্তেজনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এখন দেখার বিষয় মার্কিন প্রশাসন জাতিসংঘের এই উদ্বেগকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।