বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: ডিসি ফরিদা

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: ডিসি ফরিদা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের যেকোনো তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে গুজব ছড়ানোর আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বদা সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সাভার উপজেলা পরিষদ হলরুমে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে সাভার উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু)।

ডিসি ফরিদা খানম বলেন, পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের সময় শুরু থেকে পূজা উদযাপন এবং প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বাড়তি নজরদারি, পুলিশ, আনসার, সিআরবি/এসআরবি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন সাপেক্ষে রিচার্জেবল আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ও বাহুবন্ধনী নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখারও নির্দেশ দেন তিনি।

পূজামণ্ডপে অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের যোগাযোগ নম্বর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সর্বদা সক্রিয় রাখতে হবে।

ফায়ার সেফটির বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি মণ্ডপে কমপক্ষে ৫ কেজি ধারণক্ষমতার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, চার্জার লাইট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো ত্রুটি রাখা যাবে না। পূজা শুরুর আগেই ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের মাধ্যমে মণ্ডপগুলোর বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে পরিদর্শন করাতে হবে।

প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্থান ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে ডিসি ফরিদা বলেন, বিসর্জনস্থলে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখতে হবে। আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

গুজব প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা যাবে না। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কেউ অপতৎপরতা চালালে তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনাকে ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে আজান ও নামাজের সময় পূজামণ্ডপে মাইক বা বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের তাগিদ দেন।

ডেঙ্গু ও পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না এবং পূজা শেষে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ ঘিরে কোনো ধরনের মেলা, মাদক, জুয়া, হাউজি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না।

আগামী ১০ অক্টোবর সকাল ৫টা থেকে মহালয়া উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রতিমা বিসর্জনের পর পূজামণ্ডপ, মন্দির বা আশপাশের কোনো স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।

সভায় জানানো হয়, এবার সাভার উপজেলায় মোট ২৩৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাভার পৌরসভা এলাকায় ৪৫টি, শিমুলিয়া ইউনিয়নে ৪০টি, ধামসোনা ইউনিয়নে ১৩টি, আশুলিয়া ইউনিয়নে ১১টি, ইয়ারপুর ইউনিয়নে ১০টি, পাথালিয়া ইউনিয়নে ৩০টি, বিরুলিয়া ইউনিয়নে ১৪টি, সাভার ইউনিয়নে ৩টি, বনগাঁও ইউনিয়নে ১২টি, তেতুলঝোড়া ইউনিয়নে ২৬টি, কাউন্দিয়া ইউনিয়নে ১২টি এবং ভাকুর্তা ইউনিয়নে ২২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। আমিনবাজার ইউনিয়নে এবার কোনো পূজামণ্ডপ নেই।