মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বললেন প্রতিমন্ত্রী হাবিব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বললেন প্রতিমন্ত্রী হাবিব

ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে একটি ঐক্যবদ্ধ, সাম্য ও অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব।

তিনি বলেছেন, আজকের এই স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তথাকথিত সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নিয়ে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই।

হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই মিলে আমাদের এই বাংলাদেশ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগে অবস্থিত শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শ্রী পবন দাসের সভাপতিত্বে এবং গুরুদাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবু যদু চন্দ্র দাস, পঞ্চায়েত সভাপতি বাবু ঠাকুর দাস, সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাসসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ।

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির রাষ্ট্র বিনির্মাণ ভাবনার ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফার দ্বিতীয় দফায় ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

একইভাবে তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার দ্বিতীয় দফায় ‘রেইনবো নেশন’ বা বহুমাত্রিক সম্প্রীতিমূলক জাতিসত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যের একটি দৃশ্যমান রূপক তুলে ধরে তিনি বলেন, এক রঙের ফুল দিয়ে কখনো সুন্দর মালা গাঁথা যায় না; বরং নানা রঙের ও বৈচিত্র্যময় সুবাসের ফুল একত্র করলেই একটি দৃষ্টিনন্দন মালা তৈরি হয়।

আমাদের দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ সম্মিলিতভাবেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল সৌন্দর্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার; আর রাষ্ট্রের কাছ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা পাওয়ার নাগরিক অধিকারও সবার।

শারদীয় দুর্গোৎসবে নেওয়া সরকারি সুবিধা ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, এবার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাহী আদেশে একদিন ছুটি বাড়িয়ে টানা তিন দিন করা হয়েছে।

ফলে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দেশবাসী এবার টানা পাঁচ দিনের অভূতপূর্ব ধারাবাহিক ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

এর পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সরকারি আর্থিক অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে এবার ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সক্রিয় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করছেন।

এরই ইতিবাচক প্রভাবে এ বছর সারাদেশে রেকর্ডসংখ্যক—প্রায় ৩৪ হাজার পূজামণ্ডপে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি।

বিশেষ করে ঢাকা-০৯ সংসদীয় নির্বাচনি এলাকার আওতাধীন ৯৯টি পূজামণ্ডপে খিলগাঁও, মুগদা ও সবুজবাগ থানার ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনরাত পালাক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে নিয়োজিত রয়েছেন।

বক্তব্যের সমাপ্তিতে সবাইকে যাবতীয় বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব।

তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, কোনো ধরনের পারস্পরিক বিদ্বেষ, উসকানি বা ধর্মীয় বৈষম্য আমাদের কাম্য নয়।

সবাই সম্মিলিতভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও মানবিক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে—যেখানে রাষ্ট্র, নাগরিক অধিকার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে সবার জন্য সমানভাবে।