মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম

৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

জাতীয় কৃষি খাতের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) এবং সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে মোট ৭০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বিপুল পরিমাণ সার সংগ্রহে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ব্যয় হবে সর্বমোট ৩৬৪ কোটি ৫৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৫ টাকা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পৃথক দুটি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এই সার কেনার মূল উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই দুই ক্রয়ের যাবতীয় আর্থিক সংস্থান সরাসরি কৃষি ভর্তুকি বাজেট থেকে বহন করা হবে।

অনুমোদিত প্রস্তাবের আর্থিক বিভাজন অনুযায়ী, দেশীয় কাফকো থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৫ টাকা।

অন্যদিকে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে খরচ ধরা হয়েছে ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারাদেশে ইউরিয়া সারের জাতীয় সামগ্রিক চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ লাখ মেট্রিক টন। বিশাল এই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যমাত্রায় এককভাবে কাফকোর কাছ থেকেই মোট পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এজন্য ইতোমধ্যে বিসিআইসির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির একটি সংশোধিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তির বিধিবিধান অনুযায়ী, প্রতি লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে সার সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ লটের সার সংগ্রহের জন্য সম্প্রতি কাফকোর কাছে আনুষ্ঠানিক মূল্য প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। প্রস্তাব পাওয়ার পর চুক্তিতে নির্ধারিত যাচাই পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ৪০৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়।

এই নির্ধারিত মূল্যের ভিত্তিতে ৩০ হাজার টন সার সংগ্রহে সরকারের মোট ব্যয় হবে এক কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৫ টাকা।

এর পাশাপাশি সৌদি আরবের সরকারি প্রতিষ্ঠান সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

এটি সাবিকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতাভুক্ত অষ্টম লটের চালান।

আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য পর্যালোচনা করে প্রতি মেট্রিক টন সারের আমদানি মূল্য ৪৩১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এই লটে ৪০ হাজার টন সার আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে এক কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা। চুক্তির শর্ত মোতাবেক, এই চালানে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ সার আমদানির আইনি সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।

সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরবের সাবিকের সঙ্গে সরকার টু সরকার (জিটুজি) চুক্তির সরাসরি আওতায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মোট তিন লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন রয়েছে।

এদিকে একই দিনে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পৃথক এক বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহাসিক কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড আধুনিকায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) এই শিল্প আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল উদ্যোগ গ্রহণ করে।