অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ফকিরকান্দি ও ঘোষেরচর গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টানা প্রায় দুই ঘণ্টা চরম বেগ পেতে হয়।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ঘোষেরচর এলাকায় ফকিরকান্দি ও ঘোষেরচর গ্রামের যুবকদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। খেলা চলাকালীন মাঠের মধ্যেই উভয়পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
এই বিরোধের জেরে একপর্যায়ে ফকিরকান্দির লোকজন ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘোষেরচর গ্রামের হান্নান মোল্লাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথে উভয় গ্রামের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্র, রামদা, ঢাল, সুরকি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানা থেকে প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ সদস্যরা উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। ওই সময় উত্তেজিত গ্রামবাসীর এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ও হামলায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
সংঘর্ষে দুই গ্রামের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
আহতদের মধ্যে মারাত্মক জখম হওয়া দুই ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত এক পুলিশ সদস্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অবিরাম চেষ্টার পর পুলিশ লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন