জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
পাকিস্তানের করাচির এম এ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত গুল প্লাজা শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১৪ জনে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী দুর্ঘটনায় এখনো ৫০ জনেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক সৈয়দ আসাদ রাজা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান।
যে উদ্ধারকর্মীরা সোমবার আরও আটটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন যার ফলে নিহতের সংখ্যা ছয় থেকে বেড়ে চৌদ্দতে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ৫৪ থেকে ৫৯ জন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করতে মোবাইল ফোনের তথ্য ব্যবহার করছে।
এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচি এবং দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী সিন্ধুর গভর্নর কামরান তেসোরি গণমাধ্যমকে বলেন যে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা সত্তর জনেরও বেশি হতে পারে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি এখন একটি জাতীয় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে এই ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটিতে আগুন লাগে এবং দমকলকর্মীদের প্রায় ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপরই উদ্ধারকারী দল ভবনে প্রবেশ করে ভেতরে আটকে পড়াদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে দীর্ঘ সময় আগুনে পুড়ে ভবনটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে এটি ধসে পড়তে পারে। সোমবার উদ্ধারকারী প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জানান।
যে মলের একটি অংশে পুনরায় আগুনের শিখা দেখা দেওয়ায় অগ্নিনির্বাপণ প্রচেষ্টা আবার শুরু করতে হয়েছে। করাচির ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০১২ সালে করাচির একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনে ২৬০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল যা দেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে আছে। বর্তমানে গুল প্লাজার ভবনটি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন