ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
পবিত্র রমজান মাসে ওমরাহ পালনকারীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং নির্বিঘ্নে ইবাদত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছর রমজানে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে যাতায়াত ও স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ করে নামাজের আগে ও পরে মসজিদের কেন্দ্রীয় এলাকায় তীব্র ভিড় সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে থাকবে নিরাপত্তা কর্মীরা।
ভিড় ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব আনতে গ্র্যান্ড মসজিদের প্রবেশপথগুলোতে অত্যাধুনিক ডিজিটাল সংকেত ব্যবস্থা বা সিগন্যাল বোর্ড বসানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় `সবুজ সংকেত` মানে ভেতরে জায়গা খালি আছে এবং মুসল্লিরা প্রবেশ করতে পারবেন, আর `লাল সংকেত` মানে জায়গা পূর্ণ হয়ে গেছে এবং নতুন করে প্রবেশের সুযোগ নেই।
এই পদ্ধতি ওমরাহ পালনকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত জটলা এড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়া যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যানজট নিরসনে মুসল্লিদের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে পাবলিক বাস, ট্যাক্সি এবং আধুনিক `হারামাইন হাই স্পিড রেলওয়ে` ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় এলাকায় মোটরসাইকেল, সাইকেল বা যেকোনো অননুমোদিত যানবাহনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং বয়স্ক মুসল্লিদের ইবাদত সহজ করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান বরাদ্দ করার পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য ইলেকট্রিক কার্ট বা বৈদ্যুতিক গাড়ির সুবিধা রাখা হয়েছে। শিশুদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে অত্যন্ত ঘন ভিড়যুক্ত এলাকায় শিশুদের না আনার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তীব্র গরমে পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশ্রাম নেওয়া এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ওমরাহ পালনের জন্য ডিজিটাল অনুমতিপত্র বা পারমিট সংগ্রহ করা এখন বাধ্যতামূলক। পবিত্র এলাকায় অস্ত্র বহন, ভিক্ষাবৃত্তি, অনুমোদনহীন ফেরি বা কেনাবেচা এবং চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর মেহমানদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইবাদতের পরিবেশ তৈরি করা। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন