ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে আঘাত হানা এই কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৬ ছিল বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইসলামাবাদ ছাড়াও পেশোয়ার, সোয়াত, চিত্রাল এবং মানসেহরার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অনেক স্থানে বহুতল ভবন থেকে বাসিন্দারা দ্রুত খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন।পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে আঘাত হানে।
এর কেন্দ্রস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চল এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১১৪ কিলোমিটার। কম্পনের গভীরতা বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ার প্রাথমিক কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় প্রশাসন যাচাই করে দেখছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটি মূলত অ্যারাবিয়ান, ইউরেশীয় এবং ভারতীয়—এই তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই অঞ্চলে একাধিক ফল্ট লাইনের অবস্থানের কারণে প্রায়ই টেকটোনিক মুভমেন্ট ঘটে এবং ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এর আগে গত সপ্তাহেও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যা জনমনে নতুন করে ভীতি সৃষ্টি করেছে।
আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এখান থেকে উৎপন্ন কম্পন পাকিস্তান ও উত্তর ভারতের বিশাল এলাকায় প্রায়ই প্রভাব ফেলে। আজকের ভূমিকম্পের পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পুরো পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন