সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পরমাণু ইস্যুতে জেনেভায় বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:২৪ এএম

পরমাণু ইস্যুতে জেনেভায় বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

জেনেভায় পরমাণু আলোচনা।

জেনেভায় তৃতীয় দফায় পারমাণবিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় পক্ষই এই সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন যখন একদিকে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই সুইজারল্যান্ডের এই শহরে আলোচনায় বসছে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। 

এবারের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ওমান।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার সন্ধ্যায় জেনেভায় পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত পরোক্ষ আলোচনার আগে তিনি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন। 

জেনেভায় পৌঁছানোর পর আরাগচি সাংবাদিকদের জানান, একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ন্যায়সঙ্গত চুক্তি বর্তমানে হাতের নাগালে রয়েছে। তবে তিনি আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। 

একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার ইরান কোনো পরিস্থিতিতেই ত্যাগ করবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। নবনির্বাচিত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, মার্কিন হামলার আশঙ্কার মুখে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি আবারও সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যদি তারা সেই চেষ্টা করে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করবে।ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মার্কিন প্রশাসন কূটনৈতিক উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী হলেও বিকল্প পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। 

বিশেষ করে গাজা ও লেবানন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখোমুখি হওয়া পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটনের সামরিক উপস্থিতি ও তেহরানের অনমনীয় অবস্থান সত্ত্বেও ওমানের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।