মার্চ ৫, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পাঁচ দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে এই শোকবার্তা পৌঁছে দেন। একই দিনে নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাসে গিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর ভারতের দীর্ঘ নীরবতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে এই যোগাযোগের মাধ্যমে ভারত তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ফোনালাপে শোক প্রকাশের বাইরে দ্বিপাক্ষিক অন্য কোনো কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি দূতাবাসে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাত করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের পরপরই ইরানে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো নিন্দা বা প্রতিবাদ না জানানোয় দেশটির বিরোধী দলগুলো মোদি সরকারের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে নানামুখী সমালোচনা করে আসছিল।
এদিকে তেহরান থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে তাঁর জন্মভূমি মাশহাদে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের শাসন ক্ষমতায় থাকা ৮৬ বছর বয়সী এই নেতাকে মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হবে। এই স্থানেই তাঁর পিতার সমাধি রয়েছে। শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এই স্থানটি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মাশহাদ ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং শিয়া ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনিকে তাঁর নিজ জন্মভূমিতে সমাহিত করার সিদ্ধান্তটি যেমন আবেগীয়, তেমনি রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে মাশহাদসহ পুরো ইরানে রাষ্ট্রীয় শোকের থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন