মার্চ ৭, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাত ও বেআইনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শুক্রবার এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের পরিধি যেভাবে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে পরিস্থিতি যেকোনো সময় সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বড় ধরনের বিমান হামলার পর তেহরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।
ওয়াশিংটন এই অভিযানকে তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলার পদক্ষেপ বললেও জাতিসংঘ একে সাধারণ মানুষের জন্য চরম বিপর্যয় হিসেবে দেখছে।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরে চলমান এই বেআইনি হামলাগুলো ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। এটি কেবল আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, এখন লড়াই থামিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময় এসেছে।
অন্যথায় এই সংঘাতের দাবানল বিশ্বকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও মানবিক দিক নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, যা ইতিহাসের অন্যতম রেকর্ড। অথচ বিশ্বনেতারা এবং রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করতে ব্যস্ত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেভাবে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মানুষের এই ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনগুলো এখন লাগাতার আঘাতের সম্মুখীন হচ্ছে।সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে মার্কিন হামলায় সাধারণ স্কুলছাত্রীদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া ইরানে প্রায় ৬৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনা মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থা ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এর ফলে পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষগুলোই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিশ্ব এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটে নিপতিত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন