মার্চ ৮, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার ৭ মার্চ ২০২৬ দিবাগত রাতে প্রথমবারের মতো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে তেহরানের আশপাশের অন্তত ৩০টি তেলের ডিপো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তেল স্থাপনার পাশাপাশি একটি পানি বিশুদ্ধকরণ বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান।
হামলার ফলে তেলের ডিপোগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া এই তেল শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের দীর্ঘ রাস্তার পাশে ছড়িয়ে পড়া তেলের কারণে আগুনের লেলিহান শিখা বয়ে যাচ্ছে, যা অনেকটা `আগুনের নদী`র মতো ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।
ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরানের শারান ও শাহর রে এলাকায় অবস্থিত দুটি প্রধান ডিপোসহ কারাজ শহরের একটি তেল শোধনাগারও এই হামলার শিকার হয়েছে।বর্তমানে তেহরানের আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে, যা পুরো শহরকে অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছে। দিনের বেলাতেও শহরজুড়ে এক প্রকার কৃত্রিম রাত নেমে এসেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তেলের ডিপোগুলোতে লাগা আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং তা জ্বলছে।
এই হামলার পর ইরান সরকার অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে এই নজিরবিহীন হামলার জবাবে হামলাকারীদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান এই উত্তেজনা এখন এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন