রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরানের রাজধানী তেহরানে অস্বাভাবিক ‘কালো বৃষ্টি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৮, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

ইরানের রাজধানী তেহরানে অস্বাভাবিক ‘কালো বৃষ্টি’

তেহরানে কালো বৃষ্টি

গত শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলার পর শহরটির আকাশ এক নজিরবিহীন ও রহস্যময় পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে যে, বর্তমানে তেহরানের আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে এবং সেখান থেকে অদ্ভুত ধরণের ‘কালো বৃষ্টি’ ঝরছে। 

মূলত তেলের ডিপোগুলোতে বড় ধরণের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া তেলের কণা ও কালি বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে সামরিক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর তেহরান প্রতিনিধি ফ্রেড প্লিটজেন এই অদ্ভুত আবহাওয়া পরিস্থিতির সরাসরি বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তেহরানের বর্তমান বৃষ্টি কোনো স্বাভাবিক বৃষ্টি নয়। বৃষ্টির পানির রঙ পরিষ্কার হওয়ার পরিবর্তে কুচকুচে কালো দেখাচ্ছে। প্লিটজেন তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, এই পানি স্পর্শ করলে তা তেলে সিক্ত বা জ্বালানি মিশ্রিত বলে মনে হচ্ছে। 

হামলার পর আজ রোববার সকালেও রাজধানীজুড়ে এমন তেলমিশ্রিত বৃষ্টির ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং এর ফলে শহরের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোতে কালচে আস্তরণ পড়ে যাচ্ছে।এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ নিশ্চিত করেছিল যে, তারা তেহরানের বেশ কিছু নির্দিষ্ট জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনা থেকে মূলত ইরানের সামরিক খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। 

জ্বালানি তেলের গুদামগুলো বিস্ফোরিত হওয়ায় যে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে, তা এখন তেহরানের বায়ুমণ্ডলে স্থায়ী হয়ে কালো মেঘের রূপ নিয়েছে। এই কালি ও তেলের অবশিষ্টাংশ বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে নিচে নেমে আসায় জনমনে আতঙ্ক ও বিস্ময় তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে একটি বড় ধরণের তাৎক্ষণিক পরিবেশগত বিপর্যয় হিসেবেও চিহ্নিত করছে।