সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরানের প্রতিরোধে দিশাহারা ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম

ইরানের প্রতিরোধে দিশাহারা ট্রাম্প

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত এগারোতম দিনে পা রেখেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর পরিস্থিতি এখন এক জটিল মোড় নিয়েছে। প্রাথমিক হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ জয়ের বিষয়ে আশাবাদী হলেও ইরানের তীব্র পাল্টা আক্রমণ ওয়াশিংটনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। 

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন হবে তা যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং ইরানই নির্ধারণ করবে।

রিপাবলিকান দলের সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং ৪৬টি নৌযান ধ্বংস করেছে। 

তিনি এই অভিযানকে একটি ছোট সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে বিশ্বকে নিরাপদ করতেই এই আক্রমণ প্রয়োজন ছিল। তবে একই সাথে তিনি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত করার চেষ্টা করা হলে ইরানকে আগের চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোর আঘাত সইতে হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ফাঁকা হুমকিকে ভয় পায় না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তারা বর্তমানে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো পরিকল্পনা করছেন না।

রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরানের রাজধানী তেহরান ও কারাজ এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে বিস্ফোরণের তীব্রতা আগের দিনগুলোর চেয়ে অনেক বেশি ছিল এবং আকাশে এক অদ্ভুত সাদা আলো দেখা গেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যাঞ্চলীয় শহর খোমেইনের একটি স্কুলেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিব লক্ষ্য করে মঙ্গলবার রাতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এতে পুরো শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘাতের প্রভাব এখন কেবল ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। সৌদি আরব, কুয়েত ও বাহরাইনের আকাশসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের মানামায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক নারী নিহত হওয়ার পর সেখানে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে লেবাননের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে যেখানে ইসরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের দ্রুত লেবানন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ট্রাম্প ও পুতিনের ফোনালাপ। যুদ্ধের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই দুই নেতার কথোপকথন নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটেনও তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভের পাল্লা তত হালকা হবে। ইসরায়েল এই লড়াই চালিয়ে যেতে অনড় থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে খুব দ্রুতই এই যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার পথ খুঁজবেন।