মার্চ ১১, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রাগার থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ছয়টি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সামরিক পরিভাষায় পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত যেকোনো বড় দুর্ঘটনাকে ‘ব্রোকেন অ্যারো’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। পেন্টাগনের তথ্যমতে, গত কয়েক দশকে এমন মোট ৩২টি ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত ছয়টি পারমাণবিক বোমার সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দেওয়া কঠোর হুঁশিয়ারির কারণে এই নিখোঁজ অস্ত্রগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নতুন করে আশঙ্কায় ভুগছেন।
সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে এই হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো যদি কোনোভাবে শত্রুপক্ষের নাগাল পায়, তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘ডুমসডে প্লেন’ মোতায়েন করেছে।
বোয়িং ৭০৭ এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমানগুলো আকাশ থেকেই পারমাণবিক হামলা পরিচালনা এবং সামরিক পদক্ষেপ সমন্বয় করতে সক্ষম। যদিও ওয়াশিংটনের দাবি, যে অস্ত্রগুলো তারা নিজেরা খুঁজে পায়নি, তা অন্য কোনো দেশের পক্ষে উদ্ধার করা সহজ হবে না। তবে সমুদ্রের গভীর তলদেশে বা জনমানবহীন দুর্গম এলাকায় পড়ে থাকা এই বোমাগুলো যেকোনো সময় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটানোর সক্ষমতা রাখে। একটি বড় শহর মুহূর্তে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এসব বোমার।
নিখোঁজ পারমাণবিক বোমাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫৮ সালে টাইবি দ্বীপের নিকটবর্তী এলাকায়। সে সময় একটি বি-৪৭ হাইড্রোজেন বোমারু বিমান মাঝ-আকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রাণহানি ও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে বিমানটি তার সঙ্গে থাকা ‘মার্ক ১৫’ হাইড্রোজেন বোমাটি সমুদ্রের পানিতে ফেলে দিতে বাধ্য হয়।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন ধরে তল্লাশি চালিয়েও ওই বোমার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। সে সময় মার্কিন প্রশাসন এটিকে নকল বা ডামি বোমা হিসেবে প্রচার করলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা যায় যে, সেটি ছিল একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র। টাইবি দ্বীপ ছাড়াও গত কয়েক দশকে আরও পাঁচটি এমন অস্ত্র বিশ্বের বিভিন্ন নির্জন সমুদ্র ও দুর্গম অঞ্চলে হারিয়ে গেছে।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে যে নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি হয়েছে, তাতে এই নিখোঁজ অস্ত্রগুলো এক বাস্তব ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রের তলদেশে অনুসন্ধান চালানোর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির ফলে কোনো রাষ্ট্র যদি এই পরিত্যক্ত বোমাগুলোর নাগাল পেয়ে যায়, তবে তা বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
এদিকে গত বছরের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও এক ধাপ উসকে দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যতদিন পর্যন্ত নিখোঁজ এই ছয়টি বোমার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করা না যাবে, ততদিন এগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি স্থায়ী ও অদৃশ্য হুমকি হিসেবেই থেকে যাবে।
সূত্র: মিরর ইউকে


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন