মার্চ ১২, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির ভাষণ প্রচারের পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল যখন ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়েছে।ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যখন বৃদ্ধি পায়, তখন আমেরিকান অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং দেশটি প্রচুর অর্থ উপার্জন করে। তিনি মূলত তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি লাভজনক অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে কেবল অর্থনৈতিক মুনাফাই তার প্রশাসনের প্রধান বা একমাত্র লক্ষ্য নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কাছে সবচেয়ে বড় স্বার্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। ইরানকে একটি শয়তান সাম্রাজ্য হিসেবে অভিহিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন যে মধ্যপ্রাচ্য তথা পুরো বিশ্বকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ইরান যাতে কখনোই পরমাণু সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা তার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। ট্রাম্পের এই সরাসরি বার্তা তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকির একটি পরোক্ষ জবাব। একদিকে তেলের বাজার থেকে মুনাফা অর্জনের আত্মবিশ্বাস এবং অন্যদিকে সামরিক ও কৌশলগতভাবে ইরানকে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের কথা পুনরায় মনে করিয়ে দিলেন। তেলের দাম বাড়লে যেখানে অনেক দেশ সংকটে পড়ে, সেখানে ট্রাম্প একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি হিসেবে দাবি করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন