মার্চ ১৩, ২০২৬, ১০:৩১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মূলত বিদেশি পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কারোপের একটি আইনি পথ তৈরির চেষ্টা। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের একতরফা শুল্ক বসানোর ক্ষমতা সীমিত করার পর এই নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই অনুসন্ধান পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার প্রমাণ পাওয়া গেলে ওয়াশিংটন বড় অংকের শুল্ক বসানোর সুযোগ পাবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উৎপাদন খাতে কাঠামোগত অতিরিক্ত সক্ষমতা এবং নীতিগত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা। তারা মনে করছেন কিছু দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য ঢেলে দিচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তদন্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও মেক্সিকোর মতো বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলো রয়েছে। আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই এই তদন্ত শেষ করে নতুন শুল্কারোপের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর এই তদন্তের প্রভাব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ মনে করছে বিষয়টিকে বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।
সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান যে যুক্তরাষ্ট্র যেসব বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে তার অনেক কিছুই বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সমাধানের পথে রয়েছে। বিশেষ করে শ্রম অধিকার এবং মেধাস্বত্ব ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের রপ্তানির প্রধান অংশ হলো তৈরি পোশাক যা উৎপাদনে মার্কিন ব্যবসায়ীরা সাধারণত আগ্রহী নন। তাই স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার প্রশ্নে বাংলাদেশ খুব একটা বড় বাধা হওয়ার কথা নয়।
তবে বাণিজ্য বিশ্লেষক ও খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আগাম প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে যাতে শুল্কারোপের পরিমাণ কোনোভাবেই সহনীয় মাত্রার বাইরে না যায়। বিশেষ করে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর জন্য ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য শুল্কনীতি ভবিষ্যতে বড় ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক এই বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহের শেষদিকে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা মূলত মার্চ মাসের শেষদিকে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য বৈঠকের একটি ভিত্তি তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে এই তদন্তের ফলাফল কেবল দ্বিপাক্ষিক নয় বরং পুরো বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশসহ উদীয়মান দেশগুলোর জন্য মার্কিন বাজারের এই নীতিগত পরিবর্তন এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন