রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঈদুল ফিতরেও আল আকসা মসজিদ বন্ধ রাখছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৭, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

ঈদুল ফিতরেও আল আকসা মসজিদ বন্ধ রাখছে ইসরায়েল

অবরুদ্ধ আল আকসা মসজিদ

পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতেও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। আল-আকসা মসজিদের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আল-আকসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ইসলামী ওয়াকফ কমিটিকে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে। 

মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অজুহাতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।চলতি মাসের শুরু থেকেই মসজিদটিতে সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। 

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, নিরাপত্তার কথা বলা হলেও আসলে আল-আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম রমজান মাসে ফিলিস্তিনিরা আল-আকসায় জুমার নামাজ আদায় করতে পারছেন না। এমন নজিরবিহীন ঘটনায় পুরো মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে মসজিদের বিশাল চত্বরে প্রতিটি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অতিরিক্ত কোনো কর্মীকে সেখানে ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি পুলিশ। উল্টো অভিযোগ উঠেছে যে, বাড়তি কর্মী প্রবেশের চেষ্টা করলে কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ওয়াকফ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মসজিদের প্রধান নামাজের হল এবং ডোম অব দ্য রক-এর ভেতরে ইসরায়েল গোপন নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করেছে।

এদিকে জেরুজালেমের পুরোনো শহর এলাকাটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে চলাচল করতে পারছেন, যার ফলে ওই এলাকা এখন প্রায় জনশূন্য। গত রোববার লাইলাতুল কদরের রাতেও শত শত পুলিশ মোতায়েন করে আল-আকসার প্রবেশপথগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে হাজার হাজার মুসল্লি বাধ্য হয়ে রাজপথে নামাজ আদায় করেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দখলদার শক্তি অধিকৃত অঞ্চলের ঐতিহ্যে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে আল-আকসার ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।