মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে ইরানের এই নজিরবিহীন হামলায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হামলার বিপরীতে এসব দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ আক্রমণ প্রতিহত করার দাবি করলেও কুয়েতে বাণিজ্যিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর অবস্থানের আশপাশ থেকে সাধারণ নাগরিকদের সরে যাওয়ার জন্য আলটিমেটাম দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে যে দেশটির রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও বাকি চারটি পারস্য উপসাগরের জলসীমা অথবা জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইরানের পক্ষ থেকে আসা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং নয়টি ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে। বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে যে সংঘাত শুরুর পর থেকে তারা এ পর্যন্ত মোট ৩৬২টি ড্রোন এবং ১৫৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে যা ওই অঞ্চলে বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দর শুয়াইক বন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে বন্দরের কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
এই সিরিজ হামলার পর ইরানের আইআরজিসি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগণকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর আশপাশে অবস্থান করা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং নতুন করে বড় কোনো সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন