রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যে বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হচ্ছে মিজানুর রহমান আজহারিকে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

যে বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হচ্ছে মিজানুর রহমান আজহারিকে

মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি

বাংলাদেশের আলোচিত ও জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা ড. মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারিকে দ্রুত অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে বুধবার তার ভিসা বাতিল করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে আজহারির বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আজহারি বর্তমানে ‍‍`লিগ্যাসি অব ফেইথ‍‍` নামক একটি সিরিজ মাহফিলে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া সফর করছিলেন। তার এই সফরসূচির মধ্যে ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সফরের শুরুতেই তার কিছু মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

জানা গেছে, মিজানুর রহমান আজহারি তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারকে ইহুদিদের জন্য ‍‍`ঐশ্বরিক শাস্তি‍‍` হিসেবে অভিহিত করেন। এর পাশাপাশি তিনি ইহুদি সম্প্রদায়কে নিয়ে একাধিক আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

তিনি আরও দাবি করেন যে, এইডসসহ বিশ্বের বর্তমান বহু জটিল সমস্যার মূলে রয়েছে ইহুদিরা এবং তারাই এসব রোগের প্রসারে ভূমিকা রাখছে। এই ধরনের বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে বিবেচনা করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বুধবার সকালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজহারির এই সফর নিয়ে তারা আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন।

বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ নামক একটি সংগঠন আজহারির আগমনের বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছিল। তারা অভিযোগ করেছিল যে, এই বক্তার বক্তব্য ঘৃণা ছড়াতে পারে। সেই উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবেই শেষ পর্যন্ত তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত সোমবার ব্রিসবেনে বক্তৃতার মাধ্যমে আজহারির এই সফর শুরু হয়েছিল। সূচি অনুযায়ী আগামী ৩ এপ্রিল মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল সিডনি এবং ৬ এপ্রিল ক্যানবেরায় তার বড় ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। 

ভিসা বাতিল হওয়ায় এসব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক মহল।