বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি, দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী চুক্তি হবে পাকিস্তানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি, দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী চুক্তি হবে পাকিস্তানে

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের কালো মেঘ আপাতত সরে যেতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিতে শেষ মুহূর্তে ইসরায়েলও সায় দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে চরম সময়সীমা নির্ধারিত ছিল, তা শেষ হওয়ার মাত্র সোয়া ঘণ্টা আগে এই নাটকীয় ঘোষণা আসে। এই যুদ্ধবিরতির খবরের পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় এবং বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টায় ইরানের ওপর হামলার যে ডেডলাইন ছিল, তা স্থগিত করে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দেন। 

সেখানে তিনি ১৫ দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে জানান যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই স্থগিতাদেশের পেছনে ট্রাম্প একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ইরানকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আসা ১১ ঘণ্টার একটি বিশেষ প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প এই হামলা স্থগিত করতে রাজি হয়েছেন। ট্রাম্পের মতে পাকিস্তানের দেওয়া প্রস্তাবটি আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উভয় পক্ষ বৈঠকে বসবে এবং সেখানে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। হোয়াইট হাউস থেকেও ইতিমধ্যে এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করা হয়েছে যা বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

এদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সরাসরি অনুমোদনেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। ইরান এই চুক্তিকে তাদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছে। মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী দফার আলোচনায় তারা একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে। ইরানের পক্ষ থেকে ১০ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যাতে ট্রাম্প প্রাথমিক সায় দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইসরায়েলও এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ‍‍`কান‍‍` এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে ইরান যখনই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেবে, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই যুদ্ধবিরতি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হবে। যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো স্থগিতাদেশের নির্দেশ জারি করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্যায়ে তারা চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই কূটনৈতিক সফলতাকে আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিরসনে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো বেশ জোরালোভাবে এগোচ্ছে এবং এর একটি যৌক্তিক পরিণতির জন্য আরও সময় প্রয়োজন। এর আগে শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে সময়সীমা আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে দেওয়ার যে অনুরোধ করেছিলেন, ট্রাম্পের ইতিবাচক সাড়া সেই অনুরোধেরই প্রতিফলন। এখন বিশ্ববাসীর নজর ইসলামাবাদের পরবর্তী বৈঠকের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই সাময়িক বিরতি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কি না।