এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরান চায় পুরো অঞ্চলের সংঘাতের একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ অবসান। শুক্রবার তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম’-এর পার্শ্ববৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তেহরানের এই অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।সাঈদ খাতিবজাদেহ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, লেবানন থেকে শুরু করে লোহিত সাগর পর্যন্ত যেসব অঞ্চলে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, তার সবকটি স্থানে একযোগে সংঘাতের অবসান ঘটানোই ইরানের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বিষয়টিকে ইরানের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে অভিহিত করেন। খাতিবজাদেহ মনে করেন, খণ্ড খণ্ড বা সাময়িক কোনো সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে শান্তি আনতে সক্ষম নয়।
চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চক্র এখনই চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত এবং এর পরিবর্তে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন এই ইরানি কূটনীতিক। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ঐতিহাসিকভাবেই সব সময় উন্মুক্ত ছিল এবং আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। যদিও এই জলসীমা ভৌগোলিকভাবে ইরানের আঞ্চলিক সীমানার অন্তর্ভুক্ত, তবুও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হরমুজ ইস্যুতে ইরান সব সময়ই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন খাতিবজাদেহ। তাঁর দাবি, পশ্চিমা দেশগুলোর হস্তক্ষেপ এবং বিশেষ করে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলকে সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এসব পদক্ষেপ কেবল আঞ্চলিক শান্তিই নষ্ট করছে না, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ওপরও চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের মূলে গিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটার আহ্বান জানান তিনি। মূলত পূর্ণাঙ্গ কোনো শান্তি চুক্তি ছাড়া ইরান কোনো প্রস্তাবই গ্রহণ করবে না, এমন বার্তাই আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দিলেন এই শীর্ষ কূটনীতিক।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন