রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাকিস্তানে আজই হবে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

পাকিস্তানে আজই হবে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর: ট্রাম্প

ইসলামাবাদে কূটনৈতিক প্রস্তুতি তুঙ্গে

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহে বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড় অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সোমবার অর্থাৎ আজই পাকিস্তানের মাটিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের কথা জানানো হয়েছে। 

ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে নতুন এক কূটনৈতিক মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়েছে যে, সংঘাত ও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পুনরায় পাকিস্তান সফর করছে। 

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি সোমবার বিকেলেই ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে ট্রাম্পের দুই ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারও প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত আছেন।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর রেড জোনসহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করে সড়কগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার কার্গো বিমান ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে। এসব বিমানে করে মার্কিন প্রতিনিধিদলের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, নিরাপত্তা দল এবং অত্যাধুনিক সাঁজোয়া যান আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য চুক্তি ও আলোচনার আগে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেছেন। আলোচনায় শেহবাজ শরিফ চলমান সংকট নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সবসময় একটি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি ইরানকে আশ্বস্ত করেছেন। এখন পুরো বিশ্বের নজর ইসলামাবাদের দিকে, যেখানে আজই হয়তো নতুন কোনো কূটনৈতিক ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে।