শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ট্রাম্পকে কঠোর ভাষা ব্যবহারে সতর্ক করল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

ট্রাম্পকে কঠোর ভাষা ব্যবহারে সতর্ক করল পাকিস্তান

ট্রাম্পকে ইসলামাবাদের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্য—এমন আশঙ্কা থেকে তাকে ভাষা ব্যবহারে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার সরাসরি ওয়াশিংটনের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়ে ট্রাম্পকে তাঁর জনসভাগুলোতে কঠোর ও উসকানিমূলক ভাষা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে বিশেষভাবে সতর্ক করেছে।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্য আসন্ন উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে যখন আলোচনার টেবিলে বসার ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনো উসকানিমূলক মন্তব্য তেহরানকে পুনরায় বিমুখ করে তুলতে পারে। 

এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই পাকিস্তান অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে হোয়াইট হাউসকে পরামর্শ দিয়েছে যেন অন্তত শান্তি আলোচনার স্বার্থে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা হয়।এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে একজন শীর্ষস্থানীয় পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পাকিস্তান সরকার আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবারের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

 

বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই দুই দেশের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ সংলাপ শুরু করাই এখন পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য।ইসলামাবাদ মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই মুহূর্তে উসকানিমূলক বাগাড়ম্বরের চেয়ে গঠনমূলক সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা অনেক বেশি প্রয়োজন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক কিছু কঠোর বিবৃতি ইরানকে আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে দিতে পারে। এই কারণেই ইসলামাবাদ অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে শান্তি আলোচনার স্বার্থে ট্রাম্প প্রশাসনকে ধৈর্যশীল আচরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি নিরসনে কেন্দ্রীয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার এই আলোচনার জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা যদি সফল হয়, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতির ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করছে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নমনীয়তা এবং বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধৈর্য ও আচরণের ওপর।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই